‘গ্রেটার আফগানিস্তানে’র অংশ বালুচিস্তানও! নয়া মানচিত্র প্রকাশ করল তালিবান সরকার, ফের সংঘাত?

‘গ্রেটার আফগানিস্তানে’র অংশ বালুচিস্তানও! নয়া মানচিত্র প্রকাশ করল তালিবান সরকার, ফের সংঘাত?

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই দেশের নতুন প্রতীকী মানচিত্র প্রকাশ করল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। পশতু কবি, মতিউল্লাহ্ তুরাবের সমাধির উপর স্থাপন করা হয়েছে মতুন বৃহত্তর আফগানিস্তান, বা ‘গ্রেটার আফগানিস্তানে’র মানচিত্রটি। ওই মানচিত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চলকে আফগানিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর বালুচিস্তান। (Greater Afghanistan Map)

আফগানিস্তানের Aamaj News ‘গ্রেটার আফগানিস্তানে’র ওই ছবি সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে। তাতে লেখা হয়, ‘পশতু কবি মতিউল্লাহ্ তুরাবের সমাধির উপর ‘গ্রেটার আফগানিস্তানে’র মানচিত্র স্থাপন করেছে তালিবান। তালিবানের ওই মানচিত্রে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তোরখাম, স্পিন বোলদকে চেকপয়েন্ট রয়েছে তালিবানের, সেখানে সীমান্ত ফটক রয়েছে’। (Pakistan-Afghanistan Conflict)

তালিবানের এই পদক্ষেপ অত্য়ন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আফগানিস্তানের যে প্রতীকী মানচিত্র প্রকাশ করেছে তারা, তাতে ১৮৯৩ সালের ‘ডুরান্ড লাইন’কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এ নিয়ে তালিবানের এক সূত্র জানায়, ডুরান্ড লাইনের নামে জোর করে যে সীমান্তরেখা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বরাবরের অবস্থানই তুলে ধরেছে আফগানিস্তান। কবি তুরাবের সমাধির উপর কেন স্থাপন করা হল প্রতীকী মানচিত্র, তার সপক্ষে যুক্তি এসেছে যে, আফগানিস্তান নিজের ইতিহাস-সম্মত সীমান্তের সঙ্গে কখনও আপস করবে না, যা তালিবানের আদর্শগত পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত অন্য মাত্রা পেয়েছে সম্প্রতি। কার্যত সম্মুখসমরের দিকে এগোয় দুই দেশ, যাতে প্রাণহানিও ঘটে। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। কিন্তু সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি এখনও বেশ তপ্ত। র আগে, অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতিও স্থায়ী হয়নি বেশিদিন। খোশত-সহ আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশে বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তান, যাতে নয় শিশু ও এক মহিলা মারা যান। পাকিস্তানের দাবি, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান মদত পাচ্ছে কাবুল থেকেই। আফগানিস্তানকে আড়াল থেকে ভারতও মদত দিচ্ছে বলে দাবি করছে ইসলামাবাদ। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের প্রতীকী মানচিত্র নতুন করে পরিস্থিতি তাতিয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা।

যে পশতু কবি তুরাবের সমাধির উপর আফগানিস্তানের প্রতীকী মানচিত্রটি স্থাপন করা হয়েছে, তিনি শুধুমাত্র আফগানিস্তান বা পশতুদের মধ্যেই জনপ্রিয় নন, পাকিস্তানেও তুরাবের অগণিত অনুরাগী রয়েছেন। জাতীয়তাবাদী, বিদ্রোহী কবিতার জন্যই পরিচিত ছিলেন তুরাব। ১৯৭১ সালে নানগারহরে জন্ম তাঁর। স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষালাভের সুযোগ না ঘটলেও, তাঁর লেখা অনুপ্রেরণা জোগায় বহু মানুষকে। পশতু পরিচিতি নিয়ে বহু লেখালেখি করে গিয়েছেন তিনি। সামাজিক রীতিনীতির সমালোচনা করেছেন নিজের লেখালেখিতে। এবছরই ১৪ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, ৫৪ বছর বয়সে মারা যান তুরাব। 

সেই তুরাবের সমাধিতে আফগানিস্তানের প্রতীকী মানচিত্র স্থাপনের ছবি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই ‘ডুরান্ড লাইন’ নিয়ে  বিরোধ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের। পশতু পরিবারগুলির মধ্যে বিভাজন ঘটানো ওই ‘ডুরান্ড লাইন’ স্বীকার করে না আফগানিস্তান। 

(Feed Source: abplive.com)