Moody’s On IndiGo Crisis: ইন্ডিগোর বিমান সংকট নিয়ে মুডির কড়া সমালোচনা, পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড়সড় গাফিলতি…

Moody’s On IndiGo Crisis: ইন্ডিগোর বিমান সংকট নিয়ে মুডির কড়া সমালোচনা, পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড়সড় গাফিলতি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো সম্প্রতি যে বড়সড় বিমান সংকটে পড়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিজ এক তীব্র সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মুডিজ এর মতে, ইন্ডিগোর এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হল সংস্থার পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর গাফিলতি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইন্ডিগোর বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বা দেরিতে ছেড়েছে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ইঞ্জিন সরবরাহকারী সংস্থা প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির (P&W) তরফে ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে মুডিজ-এর মতে, শুধুমাত্র ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্ব নয়, বরং ইন্ডিগোর নিজস্ব পরিকল্পনা ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্টেও বড়সড় ত্রুটি রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ইন্ডিগোর পরিচালন ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা এই সংকটের সময় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্থার উচিত ছিল বিকল্প পরিকল্পনা রাখা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা দেখানো।’ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই সংকট ইন্ডিগোর আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং যাত্রীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখিত। ইঞ্জিন সরবরাহের সমস্যা সমাধানে আমরা P&W-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্ডিগোর এই সংকট ভবিষ্যতে ভারতের বিমান পরিবহন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যাত্রীদের আস্থা ফেরানো এবং পরিষেবার মান বজায় রাখা এখন সংস্থার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভারতীয় বিমান পরিবহন মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য আমাদের অগ্রাধিকার। ইন্ডিগোকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ইন্ডিগো বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। এই অবস্থায় সংস্থার এমন সংকট গোটা শিল্পের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিগোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মুডিজ-এর রিপোর্ট যেন সংস্থার জন্য এক সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে, এমনটাই মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞ।

(Feed Source: zeenews.com)