
নয়াদিল্লি: বাণিজ্যশুল্ক নিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্যেই ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ভারতীয় কৃষিপণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বিশেষ করে ভারত থেকে যে চাল আমেরিকায় পৌঁছয়, তা নিয়েই এবার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এমন হুঁশিয়ারি তাঁর। (Donald Trump News Tariff Warning for India)
হোয়াইট হাউসে আমেরিকার কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। আর সেখানেই ভারত-সহ এশীয় দেশগুলি থেকে আমেরিকায় আমদানিকৃত কৃষিপণ্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, বিদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করায় আমেরিকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমেরিকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে যা করণীয়, করবেন তিনি। (US Tariffs on India)
আমেরিকার কৃষকদের ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য প্রদানের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। বাণিজ্যশুল্ক থেকে যে রাজস্ব ঘরে ঢুকছে, সেখান থেকেই ওই টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমরা কোটি কোটি ডলারেরকথা বলছি। ভেবে দেখুন। কিছু দেশ আমাদের থেকে এত সুবিধা তুলেছে, ভাবা যায় না। কৃষকরা অত্যাবশ্য়ক জাতীয় সম্পদ, আমেরিকার মেরুদণ্ড।” তাই আমেরিকার কৃষিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে ‘শুল্ক-কৌশলে’ই ভরসা করছেন ট্রাম্প।
আর সেই আলোচনাতে বিশেষ করে ভারতের উল্লেখ উঠে আসে। আমেরিকার লুইজিয়ানার কৃষকরা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁরা জানান, ভারত এবং এশিয়ার মতো দেশ থেকে আমদানিকৃত, ভর্তুকিযুক্ত চালের উপর রমরমা এত যে দেশে উৎপন্ন চালের দাম মিলছে না। অথচ আমদানিকৃত চালের গুণমানও তেমন ভাল নয় বলে অভিযোগ তোলেন আমেরিকার কৃষকরা। এতেই সুর চড়ান ট্রাম্প। আমেরিকার সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে, সস্তা, নিম্নমানের চাল আমেরিকার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
কোন কোন দেশের উপর শুল্ক বসানো উচিত, কৃষকদের কাছে জানতে চান ট্রাম্প। এতে লুইজিয়ানার কেনেডি রাইস মিলের সিইও মেরিল কেনেডি সরাসরি ভারত, তাইল্যান্ড এবং চিনের নাম নেন। আমেরিকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য মার খাওয়ার জন্য এই তিন দেশকে দায়ী করেন তিনি। অভিযোগ তোলেন, চিনের জাহাজের মালপত্র আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের পরিবর্তে পুয়ের্তো রিকোয় যাচ্ছে। অথচ আমেরিকার কৃষকরা বহু বছর পুয়ের্তো রিকোয় চাল রফতানি করতে পারেননি। দক্ষিণেও আমেরিকা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কেনেডির কথায়, “চড়া শুল্কে কাজ হলে, তা আরও দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।” এতে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, “আরও (শুল্ক) চান?” এর পরই ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে ভারত, তাইল্যান্ড এবং চিনের নাম লিখে রাখতে নির্দেশ দেন তিনি। যাদের জন্য অন্যায় প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে আমেরিকাকে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
হোয়াইট হাউসে কেনেডি অভিযোগ তোলেন যে, বেআইনি ভাবে ভর্তুকিযুক্ত চাল চাপিয়ে দিচ্ছে ভারত। তিনি কথা শেষ করার আগেই ট্রাম্প বলেন, “দেশগুলির নাম বলুন, বলে যান। ভারত, আর কে? লিখতে থাকো স্কট।” এর পর ‘মূল অপরাধী’ হিসেবে ভারত, তাইল্যান্ড ও চিনের নাম নেন স্কট। জানান, আরও নাম যুক্ত করে সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব। কানাডা থেকে আমদানিকৃত সারের উপরও শুল্ক বসানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। জানান, আমেরিকায় উৎপাদন বাড়াতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর আরও শুল্ক চাপানোর বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ব্লুমবার্গ জানায়, কানাডা এবং ভারতের তরফে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আলোচনা তেমন গতি পায়নি এখনও পর্যন্ত। চলতি বছরপের অগাস্ট মাসেই ভারতের উপর মোট ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপান ট্রাম্প। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য, ইউক্রেন যুদ্ধে মদত জোগানোর জন্যই ভারতকে ‘শুল্ক শাস্তি’ দেওয়া হল বলে দাবি করেন তিনি। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিলই।বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহেই ভারতে আসছে আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধিদল। ১০ ও ১১ ডিসেম্বর দফায় দফায় আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু সেই আবহেই আরও শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।
(Feed Source: abplive.com)
