Largest Undersea Gold Deposit: সমুদ্রের গর্ভে বিরল গুপ্তধন! লুকিয়ে ৩৯০০ টন সোনা! ১৪১ কোটির দেশ এবার…

Largest Undersea Gold Deposit: সমুদ্রের গর্ভে বিরল গুপ্তধন! লুকিয়ে ৩৯০০ টন সোনা! ১৪১ কোটির দেশ এবার…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২২ ডিসেম্বর (সোমবার) ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রাম দাম  ১৩ হাজার ৬১৫ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১২ হাজার ৪৮০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রাম দাম ১০ হাজার ২১১ ​​টাকা। সেখানে ভারতের পড়শি দেশ চিন পেয়ে গেল ফের এক জ্যাকপট। সমুদ্রগর্ভস্থ এশিয়ার বৃহত্তম সোনার খনির (Asia’s Largest Undersea Gold Deposit) হদিশ মিলল সেখানে।

ইউরেকা! ইউরেকা! 

চিনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই শহরের প্রিফেকচার-স্তরের এক কাউন্টি-স্তরের শহর লাইঝো। সেখানকারই উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশে বিপুল পরিমাণ সোনার ভাণ্ডারের সন্ধান মিলল। সমুদ্রের নীচে সোনা মজুদের ক্ষেত্রে এই সর্বশেষ আবিষ্কারই এশিয়ার বৃহত্তম স্বর্ণখনি। ইয়ানতাইয়ের নগর সরকার চলতি সপ্তাহে তাদের বর্তমান পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পরিকল্পনা রূপরেখা প্রণয়নের জন্য আয়োজিত এক সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। শানডং প্রদেশে এই আবিষ্কারের ফলে লাইঝো মোট প্রমাণিত সোনার মজুদের পরিমাণ ৩,৯০০ টনেরও বেশি (১৩৭.৫৭ মিলিয়ন আউন্স) হয়েছে – যা দেশের মোট মজুদের প্রায় ২৬ শতাংশ। এর ফলে চিন সোনার মজুদ এবং উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানে রয়েছে।

১৪৪৪.৪৯ টন সোনা!

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত সমুদ্রের নীচে থাকা সোনার খনির প্রকৃত আকার প্রকাশ করেনি। এই আবিষ্কারটি ধারাবাহিক কয়েকটি সোনার খনির আবিষ্কারের মধ্যে সর্বশেষ। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে চিনের সোনার মজুদ পূর্বের অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। গত মাসে চিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশে তার প্রথম অতি-বৃহৎ, নিম্ন-মানের সোনার খনির আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই খনিতে ১৪৪৪.৪৯ টন সোনার নিশ্চিত মজুদ রয়েছে! যা দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় একক সোনার খনি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পরের পর খনি! 

নভেম্বরে জিনজিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পশ্চিম সীমান্তের কাছে কুনলুন পর্বতমালায় এক সোনার খনি আবিষ্কারের খবর এসেছিল। যেখানে ১০০০ টনেরও বেশি সোনার মজুদ রয়েছে বলে অনুমান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে শানডং প্রদেশ জানিয়েছিল যে, তারা চিনের মোট স্বর্ণ মজুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশের হদিশ পেয়েছে, যার মধ্যে জিয়াওডং উপদ্বীপে ৩৫০০ টনেরও বেশি সোনা মজুদ রয়েছে। এই উপদ্বীপেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্বর্ণখনি অঞ্চল অবস্থিত, যেখানে লাইঝো শহরটি অবস্থিত। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের মতে, চিন বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ আকরিক উৎপাদনকারী দেশ, গত বছর যার উৎপাদন ৩৭৭ টনে পৌঁছেছিল। তবে, উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকা সত্ত্বেও, প্রমাণিত স্বর্ণ মজুদের দিক থেকে চিন এখনও দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে।

চিনে সোনার খোঁজ

প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চিন গত বছর ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ১১৫.৯৯ বিলিয়ন ইউয়ান (১৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালে বর্তমান পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর থেকে খনিজ অনুসন্ধানে মোট ব্যয় প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যার ফলে প্রায় ১৫০টি খনিজ ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে। এই আবিষ্কারগুলি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন মুদ্রার ওঠানামা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর, বিশেষ করে উদীয়মান বাজারগুলোর, রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনার জন্য শক্তিশালী ক্রয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সোনার দাম তীব্র ভাবে বাড়ছে।  সোনাকে ব্যাপক ভাবে মুদ্রার ওঠানামা এবং আর্থিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে এক রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা হয়, তবে ইলেকট্রনিক্স এবং মহাকাশযান নির্মাণ-সহ শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, চিন খনিজ অনুসন্ধানে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং চিনা ভূতত্ত্ববিদরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার এবং খনিজ অনুসন্ধান উপগ্রহের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

(Feed Source: zeenews.com)