
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বড়দিন না, ছোটদিন? হ্যাঁ, প্রায় সেরকমই। বড়দিনের আবহে ছোট কাজই বটে! ভেঙে দেওয়া হল দেবতার মূর্তি। আঘাত দেওয়া হল ধর্মবিশ্বাসে। কম্বোডিয়া (Cambodia) ও থাইল্যান্ডের (Thailand) মধ্যে দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে সামরিক সংঘর্ষ। এই সামরিক সংঘর্ষের আবহেই সীমান্ত-এলাকায় ঘটল হিন্দু দেবতা বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার (demolition of Vishnu statue) মতো মারাত্মক নিন্দনীয় ঘটনা। এই বিশ্রী ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতও (India)।
আহত কম্বোডিয়া
কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাইল্যান্ডই বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার এই ভয়ংকর খারাপ কাজটি করেছে। কম্বোডিয়ার প্রিয়া বিহার প্রদেশের মুখপাত্র লিম চানপানহা বলেছেন, মূর্তিটি ২০১৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি থাইল্যান্ডের সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে কম্বোডিয়ার আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল। গত সোমবার মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়। লোডার দিয়ে মূর্তিটি ভাঙার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়। লিম চানপানহা বলেন, বৌদ্ধ ও হিন্দু অনুসারীদের কাছে পূজনীয় প্রাচীন মন্দির ও মূর্তি ধ্বংসের এই ঘটনার নিন্দা জানাই।
ভারতের ভূমিকা
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে অসম্মানজনক কাজ হিসেবে অভিহিত করে। ভারত বলে, এ ঘটনা বিশ্ব জুড়ে বিষ্ণুভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত। এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াকে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হিন্দু দেবতার মূর্তি ভেঙে ফেলার খবরটি তারা দেখেছেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলের বহু মানুষ হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবতাদের পুজো করেন। এটি সভ্যতার ঐতিহ্য। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি ফেরাতে, প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি রোধে কথাবার্তা বলা উচিত, কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা উচিত। আরও কোনও প্রাণহানি, সম্পত্তি ও ঐতিহ্যের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য ভারত উভয় পক্ষকেই সংলাপ এবং কূটনীতির উপর ভরসা রাখার অনুরোধ করেছে।
Cambodia has condemned the Thai army for demolishing a Hindu Vishnu statue in a disputed border area after more than two weeks of fighting between Cambodia and Thailand
According to Cambodian officials in Preah Vihear, the statue was built in 2014 and stood several hundred
— Jacob in Cambodia jacobincambodia) December 24, 2025
থাইল্যান্ড কী বলছে?
থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিষ্ণু মূর্তি ভাঙার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সীমান্তবর্তী সিসাকেত ও সুরিন প্রদেশে সংঘর্ষ হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে থাই গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার রকেট হামলার জবাবে থাইবাহিনী ট্যাংকের গোলা ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংঘাত ও শান্তি
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে দুদেশের মধ্যে সীমান্ত-সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। পাঁচদিনের সেই সংঘর্ষের পরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। সেই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত করতে মধ্যস্থতা করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমাসে দুই দেশের মধ্যে ফের লড়াই শুরু হয়। নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা।
(Feed Source: zeenews.com)
