Bangladesh Shocker: জামিন পেয়েই ফের কিশোরীকে ইভটিজ, প্রতিবাদ করাতে কুপিয়ে দাদার হাত-পা কাটল দুষ্কৃতীরা

Bangladesh Shocker: জামিন পেয়েই ফের কিশোরীকে ইভটিজ, প্রতিবাদ করাতে কুপিয়ে দাদার হাত-পা কাটল দুষ্কৃতীরা

 

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বোনকে কটূক্তি করছিলে এলাকার এক যুবক। জামাতপন্থী ওইসব যুবকদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেই ভয়ংকর আক্রমণ। হামলাকারীদের চপারের আঘাতে প্রতিবাদী তরুণের দুই হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের ওই যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কোপানো হয়। আহত সুফিয়ানকে প্রথমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

সুফিয়ানের মায়ের অভিযোগ, আমাদের এক আত্মীয়া কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছিল সুফিয়ান।  তার জেরেই সুফিয়ানকে মারধর ও ঘিরে ধরে কোপায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কর্মীরা।

এদিকে, ওই ঘটনার পর সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অপরিচিতি ১২-১৫ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। পুলিস দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গুরুতর আহত সুফিয়ান জানান, জামাত ও শিবিরের কর্মীদের তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে একটি ছেলে তার কিশোরী বোনকে উত্ত্যক্ত করছিল। কিন্তু কোনো কথা না শুনে তারা তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত-পা কেটে দেয়।

সুফিয়ানের মা সুফিয়া বলেন, তাদের এক কিশোরী স্বজনকে কয়েক দিন আগে এক যুবক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় মামলা করলে পুলিস মেয়েটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি যুবককেও গ্রেপ্তার করে। 

এদিকে, ওই যুবক জামিনে ছাড়া পেয়েই ফের একই কাজ করতে শুরু করে। গত বুধবার ওই ঘটনার পর সুফিয়ান উমরপুর ঘাটে বোনকে উত্তক্ত্য করতে নিষেধ করে। তাতেই ক্ষেপে ওঠে ওই যুবক। সঙ্গপাঙ্গ যোগাড় করে তারা সুফিয়ানের উপরে চড়াও হয়। চপারের কোপে তার দুই হাত ও পা প্রায় আলাদ করে দেয়। 

ওই ঘটনার পর পুলিস ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হল শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। রাজ্জাক একটি মাদরাসার শিক্ষক। উমরপুর ঘাটে তার ওষুধের দোকান আছে। সেই দোকানের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, সুফিয়ানের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তার দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। একটি অপারেশন হলেও আরও চিকিৎসার দরকার ছিল। কিন্তু তারা কাউকে না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

সুফিয়ানের মা জানান, রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসকরাই তাদের ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই তারা রাতেই তাকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন। রক্ত জোগাড় করতে দেরি হওয়ায় পরদিন বিকেলে তার অপারেশন করা হয়।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, সুফিয়ানের বাবার করা মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

(Feed Source: zeenews.com)