
মঙ্গলবার জয়শঙ্করের বাংলাদেশ যাত্রার কথা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারত সরকার ও ভারতীয়দের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই মতো ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা যাচ্ছেন তিনি’। (S Jaishankar)
চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে খালেদার ছেলে, BNP-তে তাঁর উত্তরসূরি তারিক রহমানের। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন তারিক। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে BNP সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই মারা গেলেন খালেদা।
খালেদার শেষকৃত্যে জয়শঙ্করের উপস্থিতি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এই মুহূর্তে তিক্ততায় পরিণত হয়েছে। যত সময় যাচ্ছে দূরত্ব কমার পরিবর্তে বেড়েই চলেছে। সেই আবহে জয়শঙ্করকে পাঠিয়ে দিল্লি আসলে ঢাকা পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬, দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা। তবে ভারতের চেয়ে চিনকেই সেই সময় গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। খালেদার দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জামের জোগান দেওয়া প্রধান দেশ হিসেবে উঠে আসে চিন। বরং শেখ হাসিনার আমলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক মজবুত হয়।
গত বছর সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠলে, ভারতেই আশ্রয় নেন হাসিনা। এখনও ভারতের আশ্রয়েই রয়েছেন তিনি। সেই নিয়েও দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। লাগাতার ভারতবিরোধী মন্তব্যও উড়ে আসছে সেখান থেকে। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাতার। শুধু তাই নয়, ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের সঙ্গেও সখ্য তৈরি হয়েছে ইউনূসের।
তবে খালেদার পর তারেকই BNP-র সর্বেসর্বা হতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই ইউনূস সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারেক। জনাদেশ ছাড়া ইউনূস সরকার বিদেশনীতি সংক্রান্ত যে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সম্প্রতি ঢাকার সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেছেন, ভারত অথবা পাকিস্তান, কারও ঘনিষ্ঠ হতে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ভারতবিরোধী এবং জামাতপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেন তারেক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামাত যে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
খালেদার আমলেই যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক নরম হতে শুরু করে। কিন্তু সেই সময় BNP-র উপর জামাতের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। বর্তমানে BNP ও জামাতের মধ্যে বনিবনা নেই একেবারেই। তারেক নিজেও জামাতের উপর ক্ষুব্ধ।তাই খালেদার শেষকৃত্যে ভারতের তরফে জয়শঙ্করের উপস্থিতি কূটনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
(Feed Source: abplive.com)
