Iran Protest: বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহর শত্রু’, শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড, হুঁশিয়ারি ইরান সরকারের

Iran Protest: বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহর শত্রু’, শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড, হুঁশিয়ারি ইরান সরকারের

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পেছনে ইজরায়েল থাকুক বা অন্য কেউ। ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ এখন ছড়াচ্ছে শহর ছেড়ে বাইরে। তার উপরে তৈরি হয়েছে মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কা। বিক্ষোভকারীরা এখন এতটাই বেপরোয়া যে তারা দেশের ধর্মী নেতা আয়াতোল্লা আলি খোমেইনির গর্দান চাইছেন। মেয়েরা খোমেইনির ছবি জ্বালিয়ে তাতে সিগারেট ধরাচ্ছেন।

১৯৭৯ সালে সালে তুমুল বিপ্লবের পর ইসলামি শাসন কায়েম হয়েছিল ইরানে। তার পর থেকে এতবড় অস্থিরতা তৈরি হয়নি ইরানে। রাস্তায় ফুঁসছে যুব সমাজ। আমজনতার মধ্যে মেয়েদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর সেই বিক্ষোভ দমাতে হিমশিম খাচ্ছে ইরান সরকার। প্রবল চাপে পড়ে বিক্ষোভকারীদের আল্লাহ-র শত্রু বলে ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। তাদের ধরে ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতি জারি করে বলেছেন, দেশের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীরা হলেন‘মোহারেব’ বা আল্লাহর শত্রু। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ দেশের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

কেন এমন আন্দোলন

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তায় নেমে আম জনতার এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ হল হল দেশের অর্থনীতি। দেশের অপদার্থ নীতির কারণে ইরানি মুদ্রার দাম একেবারে অতলে চলে গিয়েছে। বর্তমানে ১ ডলারের দাম ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল। পরিস্থিতি এমনই যে  খাদ্য,পোশাক কিনতে গিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ইরানিরা। বিক্ষোভের সূত্রপাত গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। তার পরেই তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্াধারণ মানুষ। ওই বিক্ষোভ এখন দেশের ৩১ প্রদেশে ছড়িয়েছে।

সরকারি দমন

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে চুপ করে বসে নেই সরকারের পুলিস ও সেনা। তাদের রাস্তায় নামানো হয়েছে। এখওপর্যন্ত রাজধানী তেহরানেই পুলিসের দমনপীড়নে নিহত হয়েছেন ২০০ বিক্ষোভকারী। এদের অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে পুলিসের গুলিতে।

গত কয়েকদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প গত একাধিকবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তাও দেন তিনি। ফলে ইরানে ট্রাম্পের মাথা গলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

(Feed Source: zeenews.com)