ফের কি নাশকতার ছক? মাসুদ আজহারের অডিও বার্তা সামনে এল, দলে দলে আত্মঘাতী জঙ্গি প্রস্তুত?

ফের কি নাশকতার ছক? মাসুদ আজহারের অডিও বার্তা সামনে এল, দলে দলে আত্মঘাতী জঙ্গি প্রস্তুত?
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন কোনও ষড়যন্ত্র রচনা করা হচ্ছে কি না, নতুন করে সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করল। এই প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে একটি অডিও রেকর্ডিং, যেটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের বলে জানা গিয়েছে। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে যে কণ্ঠ শোনা গিয়েছে, তা জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের বলে খবর। ওই অডিও বার্তায় বিপুল সংখ্যক আত্মঘাতী জঙ্গি যে কোনও মুহূর্তে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। (Masood Azhar)

এবিপি আনন্দ ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেটি ছড়িয়ে পড়েছে। জইশ একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। মাসুদকে জঙ্গি ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। পাকিস্তানে বসে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করে তারা। তাই অডিও রেকর্ডিংটি সামনে আসার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। (Masood Azhar Audio Recording)

ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে মাসুদের গলা বলে যে কণ্ঠস্বরটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাকে বলতে শোনা যায়, ১০০০-এর বেশি আত্মঘাতী জঙ্গি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতে অনুপ্রবেশ করতে মরিয়া তারা। জইশের কত সংখ্য যোদ্ধা রয়েছে, তা জানতে পারলে সকলে ঘাবড়ে যাবেন বলেও দাবি করা হয়েছে অডিও বার্তায়। বলা হয়, “এরা (আত্মঘাতী জঙ্গি) এক বা দু’জন নয়, ১০০-ও নয়, ১০০০-ও নয়। মোট সংখ্যা যদি বলে দিই, পৃথিবীর সমস্ত সংবাদমাধ্যমে হইচই শুরু হবে। এরা টাকা চায় না, পয়সা চায় না, কিছু লাভ করতে চায় না, শুধু শহিদ হতে চায়।”

অডিও বার্তায় দাবি করা হয়, আত্মঘাতী জঙ্গিরা নিজ লক্ষ্যে অবিচল। লক্ষ্যে পৌঁছতে নিজেদের প্রাণের মায়া নেই তাদের। তবে অডিও বার্তায় যে দাবি করা হয়েছে, তার সত্যতা যেমন জানা যায়নি, কবে সেটি রেকর্ড করা হয়, তা নিয়েও সঠিক তথ্য নেই হাতে। তবে যে সময় অডিও বার্তাটি সামনে এল, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনই পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জইশের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। মাসুদের পরিবারের বেশ কয়েকজন মারা যায়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালায় ভারত।

‘অপারেশন সিঁদুরে’ মাসুদের পরিবার ও আত্মীয় মিলিয়ে প্রায় ১০ জন মারা যায় বলে জানা যায়। মাসুদের বোন, জামাইবাবু, ভাগ্নে, ভাগ্নী এবং আরও কয়েক জন মারা যায় বলে খবর। ২০১৯ সাল থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মাসুদকে। ওই বছর বাহওয়ালপুরে তার ডেকায় হানা দেয় অজ্ঞাত পরিচয় কিছু লোকজন। সেই থেকে লুকিয়ে থাকে মাসুদ। সেই অবস্থাতেই ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক নাশকতা চালিয়ে গিয়েছে সে।

(Feed Source: abplive.com)