
কলকাতা: রুপোলি পর্দায় ৩০ বছর পূর্ণ করছেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukherji)। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল রানি অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি ‘রাজা কী আয়েগী বারাত’। এর আগে, বাংলায় বিয়ের ফুল ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রানি মুখোপাধ্যায়, তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। প্রথম যেদিন শ্যুটিংয়ে এসেছিলেন তিনি, সেই সময়ে হয়তো কল্পনাও করেননি যে, এই পথে পায়ে পায়ে পার করে ফেলবেন ৩০টা বছর!
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লম্বা পোস্ট করেছেন রানি। লিখেছেন, ‘৩০ বছর! এটা আমি যখন বলি, এখনও যেন আমার বাস্তবিক বলে মনে হয় না। আর এই ৩০ বছর আমায় আরও একটা জিনিস বুঝিয়েছে.. যদি তুমি কিছু ভালবেসে করো, মন থেকে করো..তাহলে যে কখন সময় চলে যায় তুমি বুঝতেও পারবে না। শুধু তোমার কাজের খিদেটা বাড়তে থাকবে। ৩০ বছর আগে আমি যখন প্রথম শ্যুটিংয়ে আসি, আমার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না যে, আমি এই পথকেই বেছে নেব। এমন না যে অভিনেত্রী হওয়া আমার স্বপ্ন ছিল… আমার মনে হয়, এই পেশাটাই আমায় খুঁজে নিয়েছে। আমার বয়স তখন খুবই অল্প, যখন আমি রুপোলি পর্দায় পা রাখি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, আমার অজান্তেই আমি অভিনয়কে ভালবেসে ফেলেছি।’
রানি মুখোপাধ্যায় আরও লিখেছেন, ‘সিনেমা যেন আমার মধ্যেই আবেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমি এখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে, সেই অল্প বয়সের মতোই স্নায়ুর চাপে ভুগি। আমার সংলাপ ভুলে যাই। আমি সিনেমায় কোনও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আসিনি। আমি শুধু আগ্রহ আর গল্পের প্রতি গভীর ভালবাসা নিয়ে এই পরিসরে পা রেখেছিলাম। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের ভাবনাকে পড়ে ফেলতে চেয়েছিলাম। যখন আমি ‘রাজা কী আয়েগী বারাত’-এ অভিনয় করেছিলাম, তখন সিনেমা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল ভীষণ কম। আমি কেবল এইটুকুই বুঝেছিলাম যে, অভিনয় আমায় নতুনভাবে জীবন দিয়েছে, বাঁচিয়ে রেখেছে। আর সিনেমা আমায় সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দিয়েছে, সেটা হল রুপোলি পর্দা কেবল আলোর ঝলমলানি নয়, এটা একটা বড় দায়িত্ব। একজন মহিলা যে গোটা জীবন সম্মানে জন্য লড়াই করে গিয়েছে.. এই চরিত্রেই আমি লড়ে গিয়েছি সারা জীবন। ৯০-এর দশকটা এখনও আমার কাছে স্বপ্নের মতোই, আমার দর্শকেরাই আমায় এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন।’
(Feed Source: abplive.com)
