Reality Show Bengali Singer: দিদিমার কোলে গানের হাতেখড়ি,১৪ বছরেই সাফল্যের শিখরে,রিয়ালিটি শো জয় পটাশপুরের মেয়ের

Reality Show Bengali Singer: দিদিমার কোলে গানের হাতেখড়ি,১৪ বছরেই সাফল্যের শিখরে,রিয়ালিটি শো জয় পটাশপুরের মেয়ের

East Medinipur News: মঞ্চে উঠলে অন্বেষাকে দেখে তার বয়স বোঝা যায় না। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি সকলের নজর কেড়ে নেয়। তার কণ্ঠে থাকে গভীর আবেগ। প্রতিটি গানেই তা স্পষ্ট।

অন্বেষা মহাপাত্র

পটাশপুর, মদন মাইতি: ছোটবেলার স্মৃতিতে আজও জড়িয়ে রয়েছে দিদিমার গান। দিদিমার পাশে বসে গান শোনা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় সময়। সেই সুরের সঙ্গে নিজে নিজে গলা মেলানোর চেষ্টা করত সে। ধীরে ধীরে গানের প্রতি টান বাড়তে থাকে। দিদিমার কাছ থেকেই শুরু হয় গানের হাতেখড়ি। সেখান থেকেই তৈরি হয় তার স্বপ্নের পথ। আজ সেই ছোট্ট মেয়েটিই কাঁপিয়ে দিচ্ছে বাংলার একের পর এক জনপ্রিয় টিভি রিয়ালিটি শো। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের গোবর্ধনপুর গ্রামের মেয়ে অন্বেষা মহাপাত্র এখন সকলের পরিচিত নাম। গ্রাম পেরিয়ে তার সাফল্যের গল্প পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তে।

অন্বেষা বর্তমানে বাগমারি নারী কল্যাণ শিক্ষা সদনের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু তার কণ্ঠে রয়েছে আশ্চর্য পরিণত ভাব। পড়াশোনার পাশাপাশি গানই তার জীবনের বড় অংশ। প্রতিদিন নিয়ম করে গান চর্চা করে সে। বাড়ির মধ্যেই তৈরি করেছে নিজের ছোট্ট গানের জগৎ। সকাল ও বিকাল—দু’সময়েই চলে রেওয়াজ। বাকি সময় মন দিয়ে পড়াশোনা করে। পরিবারও সবসময় তার পাশে থাকে। গানের প্রতি তার একাগ্রতা সকলকেই মুগ্ধ করে। ছোটবয়স থেকেই সে বুঝে গিয়েছে, পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি।

এই বয়সেই অন্বেষার গানের গলায় মুগ্ধ সকলে। এলাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এখন তার উপস্থিতি প্রায় অপরিহার্য। গ্রাম হোক বা ব্লক স্তরের অনুষ্ঠান—সব জায়গাতেই তার ডাক পড়ে। ধীরে ধীরে জেলা স্তরেও পরিচিতি বাড়ে। সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে টেলিভিশনের পর্দা থেকে। বাংলার জনপ্রিয় একটি রিয়ালিটি শো-তে অংশ নেওয়ার ডাক পায় সে। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বহু প্রতিভাবান প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত সকলকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে অন্বেষা। সেই সাফল্যে গর্বিত গোটা এলাকা।

মঞ্চে উঠলে অন্বেষাকে দেখে তার বয়স বোঝা যায় না। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি সকলের নজর কেড়ে নেয়। তার কণ্ঠে থাকে গভীর আবেগ। প্রতিটি গানেই তা স্পষ্ট। গান শেষ হতেই দর্শক আসন ভরে ওঠে করতালিতে। এত অল্প বয়সে এমন গলা সত্যিই বিরল। আজ অন্বেষা শুধু নিজের পরিবারের নয়, গোবর্ধনপুর গ্রামের গর্ব। পটাশপুর এলাকারও গর্ব সে। দিদিমার কাছ থেকে শুরু হওয়া এই গানের যাত্রা যে এতদূর পৌঁছাবে, তা কেউ ভাবেনি। ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে—এই প্রত্যাশাতেই দিন গুনছে এলাকাবাসী।