জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের ফিটনেস আইকন মিলিন্দ সোমন আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবলমাত্র একটি সংখ্যা। ৫৮ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ করলেন জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সাঁতার, গোয়ার উপকূলে ৫.২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। এই অসাধারণ কীর্তির কথা মিলিন্দ নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে। তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সাঁতার, গোয়ার উপকূলে ৫.২ কিমি, ৯০ মিনিটে সম্পূর্ণ করলাম। সমুদ্র শান্ত ছিল, সূর্য মাথার উপর, আর আমি ছিলাম সম্পূর্ণ একা। কিন্তু অনুভব করলাম, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।’
এই সাঁতারে তিনি কোনও ধরনের ফিন, স্নরকেল বা সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করেননি। শুধু সাঁতারের চশমা পরে, খালি হাতে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও বেশি করে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছে।
সাঁতারটি শুরু হয় ভোরবেলা, যখন সূর্যোদয়ের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল সমুদ্রের জলে। প্রথম ৩০ মিনিট ছিল কঠিন, শরীর মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছিল। কিন্তু একবার ছন্দে আসার পর, মিলিন্দ জানান, ‘মনে হচ্ছিল আমি যেন জলেরই অংশ।’
এই সাঁতার কেবলমাত্র শারীরিক কসরত নয়, বরং এক মানসিক সাধনার প্রতিফলন। মিলিন্দের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে এমন একাত্মতা খুব কম সময়েই অনুভব করা যায়। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও গভীরভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
উল্লেখ্য, মিলিন্দ সোমন এর আগেও বহুবার নিজের শারীরিক সক্ষমতার নজির রেখেছেন। তিনি ‘আয়রনম্যান’ খেতাব জিতেছেন, ‘আলট্রাম্যান’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং বহু ম্যারাথন ও সাইক্লিং অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তবে এই সাঁতার ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং মানসিকভাবে গভীরতম অভিজ্ঞতা।
এই কীর্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার বন্যা বইছে। নেটিজেনরা বলছেন, ‘মিলিন্দ সোমন আমাদের দেশের গর্ব। তাঁর মতো ফিটনেস আইকন আমাদের প্রেরণা।’ কেউ কেউ আবার তাঁকে ‘জলমানব’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এই সাঁতার শুধু এক ব্যক্তির কীর্তি নয়, বরং এক প্রজন্মের কাছে বার্তা। স্বাস্থ্যই সম্পদ, আর বয়স কোনও বাধা নয়। মিলিন্দ সোমনের এই সাঁতার তাই হয়ে থাকল এক অনন্য অধ্যায়, যেখানে শরীর, মন ও প্রকৃতি মিলেমিশে তৈরি করল এক নতুন ইতিহাস।
(Feed Source: zeenews.com)
