শুভপম সাহা: ইনস্টাগ্রামে বেশ সক্রিয় ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার দীপঙ্কর রায় (Dipankar Roy)। পেশাদার ফুটবল না খেললেও ৪৩ বছরের নাকতলার মিডফিল্ডার কিন্তু ফুটবলের মধ্যেই রয়েছেন। রীতিমতো খেলাধুলো করেন তিনি। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, সকালে দীপঙ্কর লাল-হলুদ তাঁবুতে গিয়েছিলেন অনুশীলন করতে। আর ক্লাবে ঢোকার মুখে বিরাট চাকার এক বিচিত্র গাড়ি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন সুভাষ ভৌমিকের আশিয়ানজয়ী দলের অন্যতম সারথী। দীপঙ্কর মোহিত হয়ে সেই গাড়ির ভিডিয়ো বন্দি করে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। দীপু জানিয়েছেন যে, তিনি জীবনে না এরকম গাড়ি দেখেছেন না এত বড় চাকা!
অ্যাটর এন ১২০০
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল থেকে দীপঙ্করকে ফোন করতেই বোঝা গেল যে, তাঁর অবাক হওয়ার রেশ কাটেনি। তিনি বললেন, ‘এই গাড়ি রাস্তা দিয়ে চললে, আর অন্য কোনও গাড়ির দিকে কেউ তো তাকাবেই না। বাপরে কী বিরাট চাকার সাইজ! আমি তো দেখে অবাক হয়ে গিয়েছি।’ ২৬ জানুয়ারি কলকাতায় সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ করবে ভারতীয় সেনা। সেই উপলক্ষে সেনার বেশ কিছু যানই ময়দানের ইতিউতি দেখা যাচ্ছে। দীপঙ্কর এদিন লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে ভারতীয় সেনার একাধিক অ্যাটর এন ১২০০ মডেলের উচ্চ-গতির উভচর যানেরই দেখা পেয়েছেন। তারই একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন তিনি।
জেএসডব্লিউ কপিধ্বজ
ভারতীয় সেনার অস্ত্রভাণ্ডার দারুণ ভাবে সজ্জিত! কী নেই ভাঁড়ারে? ভয়ংকর সব মিসাইল থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান হয়ে রণতরী। আছে সাবমেরিন থেকে ট্যাঙ্ক। তবে স্পেশালিস্ট মোবিলিটি ভেহিকেল বা SMV গতবছর দিল্লির সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে নজর কেড়েছিল। চরম পরিস্থিতির জন্যই ডিজাইনড এই গাড়ি জলে-স্থলে, কাদা-বালি, কাঁকড়ে, গভীর জঙ্গলে-শক্ত বরফে অবলীলায় চলাফেরা করতে পারে। জেএসডব্লিউ কপিধ্বজ বা অ্যাটর এন ১২০০, ইউক্রেনের শের্প এন ১২০০-র ভাবনায় তৈরি হয়েছে অ্যাটর এন ১২০০। শের্প এন ১২০০-র নির্মাতা ব্রিটেনের কোপাটো লিমিটেড। তারা জেএসডব্লিউ ডিফেন্স ও জেএসডব্লিউ গিকোর সঙ্গে পার্টনারশিপ করেছে। পঞ্জাবেই তৈরি হয়েছে অ্যাটর এন ১২০০। ভারতীয় সেনার কাছে আছে ৯৬টি। যা গতবছর পঞ্জাবের বন্যায় দারুণ সার্ভিস দিয়েছিল।

সেনার উভচর যানের বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ
১) অ্যাটর এন ১২০০ প্রতিকূল ভূখণ্ডে দাপাতে পারে। অনায়াসেই জলাশয় অতিক্রম করতে পারে। স্থলে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছুটতে পারে অ্যাটর এন ১২০০। জলে সেই গতি হয়ে যায় ৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
২) ১২০০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে অ্যাটর এন ১২০০। আরও ২৩৫০ কেজি সে টানতে পারে।বিশেষ যানের কার্ব ওজন ২৪০০ কেজি। গাড়িটি ১.৫ লিটার, ৩-সিলিন্ডার ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এবং এতে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন রয়েছে।
৩) ফোর হুইল ড্রাইভের অ্যাটর এন ১২০০-তে রয়েছে ৭১x২৩x২৫ ইঞ্চির আলট্রা লো প্রেসার টায়ার। একটি চাকার দামই প্রায় ৫.৮ লক্ষ টাকা। এমন চাকা থাকাতেই বিভিন্ন পৃষ্ঠতলে চলাচলে পারদর্শী অ্যাটর। যার মধ্যে রয়েছে খাড়া ঢাল, বরফের পথ এবং জলাভূমি।
৪) স্টিয়ারিং হুইলের পরিবর্তে অ্যাটরে আছে দু’টি লেভার। যা স্টিয়ারিং এবং ব্রেকিংয়ের জন্য ব্যবহার হয়। স্কিড স্টিয়ারিং সিস্টেম সাধারণত সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে।
৫) প্রশস্ত কেবিনে চালক ছাড়াও ৮ সেনা থাকতে পারে। প্রতিকূল ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানের জন্য তৈরি অ্যাটর। যা সৈন্যদের চলাচল এবং কর্মদক্ষতা উন্নত করে।
৬) একটি অ্যাটরের দাম ২ কোটি টাকা
(Feed Source: zeenews.com)
