
আমেরিকার সেনা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর ভেনিজ়ুয়েলার মন্ত্রী-আধিকারিকরা একটি বৈঠক করেন। দু’ঘণ্টার ওই বৈঠকের ভিডিও হাতে পেয়েছে LA Hora de Venezuela. এবিপি আনন্দ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি, তবে সেই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ ওই ভিডিও-তে ডেলসি জানান, আমেরিকার সেনা মাদুরোকে বন্দি করে নেওয়ার পর তাঁকে এবং মন্ত্রিসভার অন্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দেওযা হয়। আমেরিকার দাবিদাওয়া মেনে নিতে বলা হয় ওই সময়ের মধ্যে। (Nicolas Maduro)
ডেলসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নইলে আমাদের মেরে ফেলত ওরা। প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার পরের মুহূর্ত থেকেই হুমকি আসতে শুরু করে। দিওসদাদো (দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাগের মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো), হোরহে (রদ্রিগেজ, ডেলসির ভাই ও কংগ্রেসনাল প্রেসিডেন্ট) এবং আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয় সিদ্ধান্ত নিতে। অন্যায় মেরে ফেলত আমাদের।” LA Hora de Venezuela যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে মাদুরো আমেরিকার হাতে বন্দি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যত হন তাঁর সরকারের নেতৃত্ব।
আমেরিকার হাতে মাদুরো বন্দি হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভেনিজ়ুয়েলার শাসনভার গ্রহণ করেছেন ডেলসি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ওই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল।” শুধু তাই নয়, ডেলসির দাবি, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রথমে তাঁর কাছে খবর আসে। অপরহণের কথা জানতে পারেননি শুরুতে। তিনি এবং তাঁর ভাইও প্রাণ বিসর্জন দিতে রাজি ছিলেন বলে দাবি ডেলসির। তাঁর বক্তব্য, “এখনও একই অবস্থান আমাদের। লাগাতার হুমকি আসছে, ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। তাই ধৈর্য ধরতে হচ্ছে, বুদ্ধি খাটিয়ে পা ফেলতে হচ্ছে।” ভেনিজ়ুয়েলায় শান্তি টিকিয়ে রাখা, বন্দিদের উদ্ধার করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ধরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ডেলসি।
মাদুরো বন্দি হওয়ার পর ভেনিজ়ুয়েলার শাসনভার গ্রহণ করেছেন ডেলসি। এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই চলছেন তিনি। পাশাপাশি, দেশের মানুষের সামনে নিজেকে বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবেও তুলে ধরছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখনও পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে প্রসন্নই।
(Feed Source: abplive.com)
