রণজয় ধারাবাহিকের সেই নায়িকা, যে সব কাজ পারে! বিয়ের পরেও জীবন-বন্ধুত্ব বদলাবে না: শ্যামৌপ্তি

রণজয় ধারাবাহিকের সেই নায়িকা, যে সব কাজ পারে! বিয়ের পরেও জীবন-বন্ধুত্ব বদলাবে না: শ্যামৌপ্তি
কলকাতা: সদ্য প্রথম ছবির শ্যুটিং শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। আর তারপরেই জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে বিয়ের প্রস্তুতি। আর ১ মাসও নেই নতুন জীবন শুরু করার.. ১৪ ফেব্রুয়ারি সাত পাকে বাঁধা পড়বেন অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলি (Shyamoupti Mudly)। পাত্র অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু (Ranojoy Bishnu)। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যেত টলিউডে। হামেশাই বিভিন্ন জায়গায়, বন্ধুদের আড্ডায় এক ফ্রেমে দেখা যেত নায়ক নায়িকাকে। সেই সম্পর্কই পরিণতি পাচ্ছে সাত পাকে।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের পরিচালনায় প্রথমবার বড়পর্দায় পা রাখলেন শ্যামৌপ্তি। আউটডোর শ্যুটিং সেরে সদ্যই ফিরেছেন তিনি, তারপরেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিয়ের গোছগাছ। এবিপি লাইভ বাংলাকে শ্যামৌপ্তি বললেন, ‘আমরা ১ দিনে সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। তবে একেবারে বাঙালি নিয়ম মেনেই বিয়ে করব আমরা। অগ্নি সাক্ষী রেখে সাত পাক, গায়ে হলুদ.. সবই থাকবে। আমাদের সাজগোজেও থাকবে একেবারে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। বিয়ের মেনুতেও থাকবে বাঙালি খাবার।’

কাজের সূত্রে এর আগে অনেকবারই শ্যামৌপ্তিকে বধূবেশে সাজগোজ করতে হয়েছে। নিজের বিয়ের সাজে কী কী বিশেষত্ব পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী? শ্যামৌপ্তি বলছেন, ‘বাঙালি বিয়ে মানেই আমার কাছে লাল। তাই বিয়ের দিন একটা লাল শাড়ি পরব, তবে বেনারসি নয়। বেনারসির মতো ভারি শাড়ি পরে সারা সন্ধে রাত থাকতে চাই না। চুলে ফুল লাগানোর ইচ্ছা নেই, বরং অন্যরকম কিছু করব। রূপটান ও হবে একেবারে সাদামাটা। আসলে আমি নিজে একেবারেই সাজতে পছন্দ করি না। আমার মনে হয় খুব সাজগোজ করলে আমাকে ভাল ও লাগে না। রণজয় ও আমায় খুব সাজগোজ করে দেখতে পছন্দ করে না। বলে, ‘তুই যেমন আছিস, তেমনই থাক।’ ফলে ওর আর আমার পছন্দ মিলে যায়। রণজয় বারে বারে বলেছে, বিয়েতে এমন কোনও নিয়ম করব না যেটা আমাদের আনন্দে ব্যাঘাত ঘটায়। খুব আনন্দ করে বিয়ে করতে চাই আমরা।’

বিয়ে মানেই তো সংসারের দায়িত্ব। অভিনয়ের চাপ সামলে কীভাবে সংসার করার পরিকল্পনা শ্য়ামৌপ্তির? অভিনেত্রী বলছেন, ‘সংসারটা আমাদের ২ জনের, দায়িত্ব ও তাই ভাগাভাগি। আমার আর রণজয়ের সম্পর্কের বিশেষত্বটা হল, আমাদের কমফোর্ট জোন। আমি ওর কাছে ভীষণ সহজ, ওও আমার কাছে। সম্পর্কে এই আরামটা থাকা দরকার। বিয়ের পরে জীবনটা যেন না বদলায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। কাজকে সবসময় সবার আগে রাখব, পাশাপাশি নিজেদের মতো করেও জীবনটা কাটাব। আমরা একসঙ্গে ভাল থাকতে পারব বলে মনে হয়েছে, তাই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর একটা মজার ব্যাপার রয়েছে.. আমি রান্না করতে ভালবাসি। আর রণজয় রান্না ছাড়া বাকি সমস্ত কাজ পারে। ধারাবাহিকের নায়িকার মতোই.. (হাসি)।

বিয়ের পরে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে? শ্যামৌপ্তি বলছেন, ‘অবশ্যই যাব। তবে হয়তো এখনই নয়। রণজয় খুব ঘুরতে ভালবাসে.. এক একটা জায়গায় গিয়ে, সেখানকার মানুষদের সঙ্গে মিশে গিয়ে, সেখানকার স্থানীয় খাবার খেয়ে ঘুরতে ভালবাসে। আমি ও ওর সঙ্গে কয়েকবার ঘুরতে গিয়ে সেই স্বাদটা পেয়ে গিয়েছি। আমাদের কাজের জন্য এখনই লম্বা ছুটি নিতে পারব না। তবে একটু কাজ সামলে একটা লম্বা ছুটি নেব। তারপরে অন্তত ২০-২৫ দিনের জন্য লম্বা ছুটিতে মধুচন্দ্রিমা।’

(Feed Source: abplive.com)