আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনার আবহে ভারতের কাছাকাছি কানাডা, বাণিজ্যে চুক্তির উদ্যোগ

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনার আবহে ভারতের কাছাকাছি কানাডা, বাণিজ্যে চুক্তির উদ্যোগ
নয়াদিল্লি : রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর আগেই শুল্ক বাড়িয়ে রেখেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন সময়ে ভারত-পাকিস্তান সম্ভাব্য যুদ্ধ থামিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যদিও তাঁর সেই দাবিতে কখনোই সিলমোহর দেয়নি ভারত সরকার। সেই থেকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে। একইভাবে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দাবি-পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে আমেরিকা-কানাডা সম্পর্কেও। গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্প যে নিরাপত্তা বলয় তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে সায় নেই কানাডার। চিনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য সমঝোতা বাড়ানোর মতো বিষয়ও রয়েছে। এসবের জেরে কানাডার প্রতি রুষ্ট ট্রাম্প। এই আবহে এবার সম্পর্কের উন্নতি হতে চলেছে ভারত-কানাডার। তেল ও গ্যাস নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর উপর অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চলেছে উভয় দেশ। এমনই খবর।

ব্লুমবার্গ নিউজের সামনে আনা একটি যৌথ বিবৃতি অনুসারে, কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন এবং ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মধ্যে বৈঠকের পর অটোয়া ভারতে আরও অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস পাঠানোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি কানাডায় আরও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠাবে।

মঙ্গলবার গোয়ায় ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে সাক্ষাৎ হতে চলেছে দুই মন্ত্রীর। একসময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই ব্যবস্থাটি কানাডিয়ান শিখ কর্মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য চাপান-উতোরের আবহে কানাডার রফতানি বাজারকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তাঁর প্রধান প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে অন্যতম এই পদক্ষেপ। তাঁর এই উদ্যোগ এশিয়ার ক্ষমতাশালী শক্তির সঙ্গে বাস্তববাদী, অর্থনীতি-প্রথম কূটনীতির দিকে তাঁর সরকারের পদক্ষেপকে প্রতিফলিত করছে।

আগামী সপ্তাহগুলিতে কার্নির ভারত সফরের কথা রয়েছে। তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নভেম্বরে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক পার্টনারশিপের জন্য আলোচনা পুনরায় শুরু করেন। ২০২৪ সালে কানাডা এবং ভারতের মধ্যে দ্বিমুখী পণ্য বাণিজ্য ১৩.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (৯.৭ বিলিয়ন ডলার) ছুঁয়েছে এবং অটোয়া আরও অনেক বেশি বৃদ্ধির সুযোগ দেখছে – বিশেষ করে জ্বালানি ক্ষেত্রে।

কার্নির ভারত সফর এই বছরের শেষের দিকে তাঁর সাম্প্রতিক বেজিং সফরের পর হবে। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুল্ক বাধা হ্রাস করতে সম্মত হয়েছেন – এই পদক্ষেপের পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি অটোয়া “চিনের সঙ্গে চুক্তি করে”, তাহলে কানাডিয়ান পণ্যের উপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।

(Feed Source: abplive.com)