ভোটের আগে বাংলাকে কেমন দেখছেন? ‘পশ্চিমবঙ্গ একটি গ্লোরিফায়েড বৃদ্ধাশ্রম’, বললেন রাহুল অরুণোদয়

ভোটের আগে বাংলাকে কেমন দেখছেন? ‘পশ্চিমবঙ্গ একটি গ্লোরিফায়েড বৃদ্ধাশ্রম’, বললেন রাহুল অরুণোদয়
কলকাতা: নতুন বছরের শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হতে এখনও সময় রয়েছে। তবে হুঙ্কার, পাল্টা হুঙ্কার, আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে সরগরম চারিদিক। সাধারণ মানুষ তো বটেই, তারকারাও এই আঁচ টের পাচ্ছেন ভাল মতোই। কারণ দিনের শেষে সকলেই ভোটার। আর ভোটার হওয়ার দরুণ রাজ্যে ভোটের হাওয়া কেমন কোন কেমন, কী অনুভূতি হচ্ছে, তা নিয়ে এবিপি আনন্দে মুখ খুললেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। (Rahul Arunoday Banerjee)

নির্বাচনের ঠিক আগে আগেই পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর কাজ শুরু হয়েছে। সেই নিয়েও তরজা চরমে। শাসক-বিরোধী পরস্পরকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি থেকে রোজগারে ঘাটতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিপর্যয়, এসবের মধ্যে সাধারণ মানুষ কেমন আছেন, তা ভাবার সময় নেই কারও। সাধারণ মানুষের এই অপ্রাপ্তি নিয়েই  সরব হলেন রাহুল। (West Bengal Assembly Elections 2026)

রাহুল একেবারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা খুব হায় হায় করছি যে আমাদের সিনেমা কেন দেখতে আসছে না, আর্ট এগজিবিশনে কেন ভিড় হচ্ছে না। আসলে আমাদের স্পেন্ডিং ক্যাপাসিটি (ক্রয়ক্ষমতা) বলে আর কিছু নেই। পশ্চিমবঙ্গ আসলে একটি গ্লোরিফায়েড বৃদ্ধাশ্রম। আমার স্পেন্ডিং ক্যাপাসিটি আছে বলেই হয়ত সহজকে একটি দামি বেসরকারি স্কুলে পড়াতে পারছি। কিন্তু আমার মতো প্রতিভাশালী অন্য কেউও থাকতে পারেন, যাঁর স্পেন্ডিং ক্যাপাসিটি আমার বাবার মতো!”

বর্তমানে শিক্ষার সমান সুযোগও যে হাতছাড়া হচ্ছে, শিক্ষার মানও যে লাগাতার পড়ছে, তা নিয়ে অকপট যুক্তি তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, “যোগ্য দৌড়নোর যে জায়গাটা আমি আমার সময় পেয়েছি…পরমব্রত পাঠভবনের মতো স্কুলে পড়েছে। কিন্তু আমি, ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনির্বাণ, আমরা রকারি স্কুলে পড়েছি। কিন্তু আমার কেউ কারও থেকে পিছিয়ে স্টার্ট করিনি। আমাদের পড়াশোনার মান এতটা ভাল ছিল। এবছর জয়েন্টের রেজাল্ট বেরিয়েছে পুজোর কাছাকাছি।”

রাহুলের কথায়, “এই সব কিছু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সবটাই একটা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি। লুম্পেনগিরিকে সেলিব্রেট করা। যাদের অর্থ আছে, তাদের অর্থের একটা অশ্লীল প্রদর্শন, এই ‘হ্যাভ নটস’দের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠছে এই শহরে। আমরা ফাঁপা হয়ে যাচ্ছি। আমাদের রাজনৈতিক বিচারবোধ ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। একটা Messy সিচুয়েশনে আছি আমরা। সেটা Messi-র আসাতেও বোঝা গেল। আমাদের মনে হয় চোখ খোলা দরকার যে, যেটা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আর দেরি বলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী মুখ দেখাব জানি না।”

পাঁত বছর পর রাজ্য়ে একবার ফের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। যে আশা-প্রত্য়াশা নিয়ে আগেরবার মানুষ সরকার বেছে নিয়েছিলেন, তা কি পূরণ হয়েছে? এবার পাল্লা ভারী কাদের দিকে? সেই উত্তর ভোটাররা কয়েকমাস পরই দিয়ে দেবেন EVM-এ।

(Feed Source: abplive.com)