
ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। ভেনিজ়ুয়েলায় যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছিল চিন, তা তারা ফেরত পাবে কি না, জিজ্ঞেস করা হয় তাঁকে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চিনকে স্বাগত জানাচ্ছি। এসে তেল নিয়ে চুক্তি করুক ওরা। ইতিমধ্যেই একটি চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ভারত আসছে। ইরানের পরিবর্তে ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত। সেই মতো চুক্তি হয়ে গিয়েছে আমাদের।” (Venezuelan Oil)
একদিন আগেই এই খবর প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। জানা যায়, ভারতকে ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আগামী দিনে তা আরও কমিয়ে আনার ভাবনা চিন্তা চলছে। ভারতের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, আমেরিকার সঙ্গে কথাবার্তা যে ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে, সম্প্রতি তার ইঙ্গিত দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূস গয়ালও। ভারত ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনবে বলে এবার কার্যত ঘোষণা করে দিলেন ট্রাম্প। দিল্লির তরফে যদিও সরকারি ভাবে কিছু বলা হয়নি এখনও পর্যন্ত।
VIDEO | Florida: US President Donald Trump says, “China is welcome to come in and make a great deal on oil. India is coming in and they’re going to be buying Venezuelan oil as opposed to buying it from Iran. So we’ve already made that deal, the concept of the deal. But China is… pic.twitter.com/u0vLLCuBnM
— Press Trust of India (@PTI_News) February 1, 2026
এই ভেনিজ়ুয়েলার থেকে তেল কেনার দরুণই ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতের উপর প্রথমবার ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এর পর ভেনিজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। শেষ পর্যন্ত গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজু়য়েলায় ঢুকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে তারা। ভেনিজ়ুয়েলার তেলের উপর কায়েম করে নিজেদের দখলদারি। আর তার পরই ভারতকে ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দেয় আমেরিকা।
একসময় ইরান থেকে ভারতে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করা হতো। বর্তমানে ইরান থেকে সামান্য় পরিমাণ তেলই কেনা হয়। বরং ২০২২ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার তেলের অন্যতম ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। রাশিয়ার থেকে তেল কিনে ভারতও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মদত জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে তাঁর সরকার। এর ফলে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি যেমন আটকে যায়, তেমনই ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। এই মুহূর্তেও ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। এতদিন রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনায় আপত্তি জানালেও, এদিন সেই নিয়ে কিছু বলেননি ট্রাম্প। ভারত ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনতে রাজি হলে, শুল্ক-শাস্তি হটবে কি না, শুরু হয়েছে জল্পনা।
(Feed Source: abplive.com)
