অর্ডার পেয়েই চোখা মন্তব্য-গলাবাজি, যুদ্ধবিমান জোগান দেওয়ার ক্ষমতাই নেই পাকিস্তানের!

অর্ডার পেয়েই চোখা মন্তব্য-গলাবাজি, যুদ্ধবিমান জোগান দেওয়ার ক্ষমতাই নেই পাকিস্তানের!
নয়াদিল্লি: ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকেই তাদের তৈরি যুদ্ধবিমান হু হু করে বিকোচ্ছে বলে দাবি পাকিস্তানের। বিভিন্ন দেশ থেকে এত বরাত মিলছে যে শীঘ্রই আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার থেকে ঋণ নিতে হবে না বলে আশাবাদী তারা। কিন্তু বাইরে থেকে বরাত এলেও, পাকিস্তান আদৌ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওই সংখ্যক যুদ্ধবিমান উৎপাদনের ক্ষমতাই পাকিস্তানের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Bloomberg বিষয়টি সামনে এনেছে। চাহিদার জোগান দেওয়ার মতো সাধ্য পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছে তারা। তারা জানিয়েছে, বছরে ১৬ থেকে ১৮টি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান তৈরি করে পাকিস্তান, যা নিজেদের বায়ুসেনায় ব্যবহৃত হয়। এমন পরিস্থিতিতে অন্য দেশের চাহিদা কী ভাবে পূরণ করা হবে, প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত যা খবর, সেই অনুযায়ী, কমপক্ষে পাঁচটি দেশ পাকিস্তানের JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত মাসেই ইরাক, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখায় বলে জানা যায়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব এবং লিবিয়াও পাকিস্তানের Jf-17 Thunder কিনতে আগ্রহী। 

মায়ানমারই প্রথম পাকিস্তানের কাছ থেকে JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনে। ২০১৫ সালে ১৬টি যুদ্ধবিমানের অর্ডার দেয় তারা, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬টিই সরবরাহ করতে পেরেছে পাকিস্তান। ২০২১ সালে নাইজিরিয়া তিনটি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনে পাকিস্তানের কাছ থেকে। ২০২৪ সালে আজেরবাইজান ৪০টি যুদ্ধবিমান অর্ডার দেয়। ২০২৫ সালে তাদের ভিক্ট্রি ডে প্যারেডে পাঁচটি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান চোখে পড়ে। 

আজেরবাইজান ৪০টি যুদ্ধবিমান চেয়েছে পাকিস্তানের কাছ থেকে। সেই মর্মে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। লিবিয়া এবং বাংলাদেশ ১৬টি করে যুদ্ধবিমান কিনতে চায়। সৌদি আরবের সঙ্গে ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি হয়েছে। প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী তারা। ইন্দোনেশিয়াও ৪০টি যুদ্ধবিমান কিনতে চায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান সেগুলি সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাকিস্তানের কাছে সেই পরিমাণ টাকা নেই বলে মনে করছেন German Marshall Fundo Indo-Pacific Programme-এর সমীর লালওয়ানি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কেউ ওই বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালবে বলে মনে হয় না তার। একা একা ওই যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারবে না পাকিস্তান। চিন সব ফেলে তাদের স্বার্থ দেখতে ছুটে যাবে কি না, সেই নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। যৌথ প্রকল্প বলেই বহু ক্ষেত্রে ঐক্যমত্য তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়া মুশকিল।

অন্য দিকে, চিন ছাড়াও অন্য দেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করে পাকিস্তান। রাশিয়ার Klimov-এর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় JF-17 Thunder যুদ্ধবিমানে। কিন্তু ওই সংস্থার উপর এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে তাতেও বিপাকে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। যদিও পাকিস্তানের প্রাক্তন এয়ার ভাইস মার্শাল ফৈজ আমির এই যুক্তি মানতে নারাজ। উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে তাঁর দাবি, অর্ডার পাওয়ার আগে কেউই উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে না। প্রয়োজন বুঝেই কাজে হাত দেওয়া হয়।

কিন্তু পাটিগণিতের হিসেব অন্য ছবিই তুলে ধরছে। কারণ ঋণের দায়ে জর্জরিত পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বারস্থ হয়েছে। ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমানতের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে তারা। ২০২১ সালে ওই টাকা মজুত করে আমিরশাহি, যাতে পাকিস্তানের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ঠিক থাকে। সৌদি আরব, আমিরশাহি এবং চিন মিলে সেখানে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার গচ্ছিত রেখেছে। এই মুহূর্তে তাদের IMF-এর ঋণের টাকাতেও টিকে রয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রিতে পাকিস্তান যে নিজেদের প্রতিযোগী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, তা অবাস্তব বলেও মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

(Feed Source: abplive.com)