মসজিদে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি খোদ আসিম মুনির? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্ন পাকিস্তানেরই

মসজিদে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি খোদ আসিম মুনির? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্ন পাকিস্তানেরই
নয়াদিল্লি: জুম্মার নমাজ চলাকালীন তীব্র বিস্ফোরণ। মসজিদ জুড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছিল শুধু লাশ। ইসলামাবাদ থেকে গতকাল ওই ছবি সামনে আসতে চমকে উঠেছিলেন সকলেই। আর সেই নিয়েই এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ। (Islamabad Blast News)

শুক্রবার জুম্মার নমাজ চলাকালীন ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। সব মিলিয়ে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন ওই বিস্ফোরণে। আহতের সংখ্যা প্রায় ১৭০। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই একটি ভিডিও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিও-য় যাঁকে দেখা গিয়েছে, তিনি পাক সেনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আদিল রজ়া। এবিপি আনন্দ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। তবে মুনির কিছু ঘটাতে পারেন বলে, কিছু দিন আগে সত্রক করেন আদিল।  (Asim Munir Pakistan Blast)

ভিডিওটিতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন আদিল। তিনি জানান, পাক-সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল মুনির একটি ‘ভুয়ো অভিযান মঞ্চস্থ’ করবেন। এক্ষেত্রে ছায়াযুদ্ধ চালানো হবে, যাতে ভারত এবং আফগান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে এবং পাকিস্তানের অন্দরেও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ‘বোর্ড অফ পিস’ গড়েছেন, তাতে অংশ নিতে হবে না পাকিস্তানকে, সেনা পাঠাতে হবে না গাজ়ায়।

আদিল আরও জানান, দেশে বড় কিছু ঘটাবেন মুনির। আফগানিস্তান অথবা ভারতের উপর তার দায় চাপানো হতে পারে, যাতে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা যায় যে, আগে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সুনিশ্চিতকরণ দরকার। তাই গাজ়ায় সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই তাদের। গতকাল ইসলামাবাদের  শিয়া মসজিদে ওই হামলার নেপথ্যে তেহরিক-ই-তালিবা পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শিয়া মুসলিমদের ধর্মস্থানে আগেও হামলা চালিয়েছে তারা। 

গতকালের বিস্ফোরণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন অনেকেই। তাঁরা জানিয়েছেন, এত তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে যে, বহু দূরের মানুষজনও শব্দ শুনেছেন। ইসলামাবাদের তরলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে হামলা চালানো হয়। পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মসজিদের ফটকেই আটকানো হয় আত্মঘাতী জঙ্গিকে। কিন্তু সেখানেই,প্রার্থনারত সকলের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায় সে। কোনও সংগঠন এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ পাক-তালিবানের হাতই দেখছে। 

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ, এই ঘটনার জন্য আবার আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘এটা প্রমাণিত হামলায় যুক্ত জঙ্গি আফগানিস্তান গিয়েছিল এবং সেখান থেকেই এসেছে’। ভারতের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। ভারত এবং আফগানিস্তানের ‘ষড়যন্ত্রে’র পর্দাফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন। ভারত যদিও ওই অভিযাগ খারিজ করে দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, অন্যকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের সমস্যাগুলি বোঝা উচিত পাকিস্তানের।

(Feed Source: abplive.com)