জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শিক্ষক ভগবানের সমতুল্য। কথায় আছে, ‘গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু’। শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, বরং একজন ছাত্রের চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সেই কথা এখন অতীত। ভর্তি ক্লাসের সামনে টিচারকেই সপাটে চড় ছাত্রের। ঘটনাটি গুজরাতের পঞ্চমহল জেলার।
পরীক্ষার হলে দেরি করে আসায় মহিলা ইনভিজিলেটর বকুনি দেয় দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রকে। আর তাতেই ক্ষেপে লাল হয়ে যায় ছাত্র। সপাটে শিক্ষিকার গালে চড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। শুধু চড় মেরেই ক্ষান্ত হয়নি ওই ছাত্র, পরবর্তীতে দলবল নিয়ে স্কুলে এসে ওই শিক্ষিকাকে সপরিবারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি শেহরা শহরের এস.জে. ডাভে হাই স্কুলে এই নক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রের নাম মোহাম্মদ খান আনসারি (১৮)। গত ২৪ জানুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে সে স্কুলে দেরি করে পৌঁছায়। কেন দেরি হল০ শিক্ষিকা এই প্রশ্ন করায় ছাত্রটি উদ্ধতভাবে উত্তর দেয়, ‘বাড়িতে আমাকে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না, আপনি প্রশ্ন করার কে?’ এরপরই সে আচমকা ওই শিক্ষিকার গালে চড় মারে এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে ক্লাসরুম থেকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
ঘটনার দিন অভিযুক্তের বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইলেও, তিন দিন পর অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই ছাত্র তার বাবা এবং আরও ১৫-২০ জন সঙ্গী নিয়ে পুনরায় স্কুলে চড়াও হয়। শিক্ষিকা ওই শহরে একা থাকেন জেনে তারা তাকে প্রাণে মারার বা বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয় বলে পুলিসকে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিস অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ করে।
পুলিস ইন্সপেক্টর অঙ্কুর চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত ১৮ বছর বয়সী ছাত্রকে আদালতে তোলা হলে গত শুক্রবার সে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনও জারি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীতে স্কুল শিক্ষিকার পথ আটকে শ্লীলতাহানি, তারপর প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রের লালসার প্রতিবাদ করায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর হামলা চালায় সে। চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে অভিযুক্ত ছাত্র শিক্ষিকার ঠোঁটই কেটে ফেলে। রক্তে ভেসে যায় শিক্ষিকার সারা শরীর।
(Feed Source: zeenews.com)
