বাংলাদেশে হেফাজতে থাকাকালীন রহস্যমৃত্যু হিন্দু নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রীর, খুন বলছেন হাসিনা

বাংলাদেশে হেফাজতে থাকাকালীন রহস্যমৃত্যু হিন্দু নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রীর, খুন বলছেন হাসিনা
নয়াদিল্লি: জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যমৃত্যু বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হিন্দু নেতা রমেশচন্দ্র সেনের। রাজনীতিতে বরাবর নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি, অন্যের সাহায্য়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যও পরিচিত ছিলেন। জেলের মধ্যে তাঁর মৃত্যু ঘিরে সন্দেহ দানা বাঁধছে। (Ramesh Chandra Sen)

দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন রমেশচন্দ্র। শনিবার সকালে সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদধ্যম। জানা গিয়েছে, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে সকাল ৯.৩০টা নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। (Bangladesh News)

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে জেলে রাজনৈতিক বন্দিদের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। আর সেই আবহেই ৮৬ বছর বয়সি রমেশচন্দ্রর মৃত্যু হল। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলের সুপার ফারহাদ সরকার।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন হাসিনা। এর পর ওই বছরই ১৬ অগাস্ট রমেশচন্দ্রকে গ্রেফতার করে ঠাকুরগাঁও থানার পুলিশ। প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। পরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দিনাজপুরে। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে মুখ ষড়যন্ত্র দেখছে আওয়ামি লিগ। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে আওয়ামি লিগ, যাতে লেখা হয়, ‘আধ ঘণ্টার মধ্যে দিয়ে যাব বলে সাদা পোশাকের একদল লোক বৃদ্ধ মানুষটিকে নিয়ে গেল। পাঁচবারের সাংসদ, সাবেক মন্ত্রীর জীর্ণ হাত দু’টো মোটা রশিতে বাঁধা হচ্ছিল। পাশে দাঁড়ানোর মতো সন্তান ছিল না, যে বাবা বলে বাধা দেবে। দেড় বছর পর আজ তিনি ফিরলেন, দিনাজপুর জেলের বাথরুমে নিথর পড়ে থাকা এক লাশ হয়ে’।

১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম রমেশচন্দ্রের। তিনি আওয়ামি লিগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। হাসিনা সরকাররে পতনের পর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রমেশচন্দ্রের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে BNP-ও। দলের নেতা মির্জা ফখরুল আলমগির রমেশচন্দ্রের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

আওয়ামি লিগের তরফে হাসিনার বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে লেখা হয়, ‘এই হত্যার তীব্র নিন্দা করছি আমি। বাংলাদেশে যে সন্ত্রাসের নরকযন্ত্রণা নেমে এসেছে, গোটা বিশ্বকে বলব বিবেককে প্রশ্ন করুন’। মহম্মদ ইউনূসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও পর্যন্ত। 

(Feed Source: abplive.com)