
কলকাতা: বম্বে হাইকোর্টে স্বস্তি সঙ্গীতশিল্পী পলাশ মুচ্ছলের (Palash Muchhal)। ক্রিকেট তারকা স্মৃতি মন্ধানার (Smriti Mandhana) সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই চর্চায় রয়েছেন পলাশ। সম্প্রতি স্মৃতির বন্ধুর তরফ থেকে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। স্মৃতি মন্ধানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিদ্যন মানে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, বিয়ের দিনই পলাশ মুচ্ছলকে অন্য নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন স্মৃতি ও তাঁর বন্ধুরা। এই ঘটনা এতটাই অবাক এবংল বিব্রত করেছিল সবাইকে যে ঘটনার অভিঘাত সামলাতে পারেননি স্মৃতি বা তাঁর বন্ধুরা কেউই। পলাশকে নাকি মারধর পর্যন্ত করেছিলেন স্মৃতির বন্ধুরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বিদ্যনের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন পলাশ। মানহানির মামলা করেছিলেন বিদ্যনের বিরুদ্ধে। আর সেই মামলায় এবার রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট।
বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ
সূত্রের খবর, বিদ্যনের বিরুদ্ধে করা পলাশের মামলায় একটি নির্দেশ জারি করেছে বম্বে হাইকোর্ট। পলাশের আইনজীবী শ্রেয়াংশ আর মিথারে এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন। আদালত বিদ্যনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে, পলাশের নামে কোনও মন্তব্য করা যাবে না। কোনওরকম খবর ছড়ানো যাবে না। এই ধরনের কোনও খবর ছড়ানো যাবে না যা পলাশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১১ মার্চ।
পলাশের বিরুদ্ধে বিদ্যনের অভিযোগ
প্রসঙ্গত, এর আগে বিদ্যন পলাশের নামে সাঙ্গলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি পলাশের সঙ্গে দেখা করেন এবং ‘নজরিয়া’ ছবিতে প্রযোজক হিসাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ পান। এই ছবির জন্য তিনি মোট ৪০ লক্ষ টাকা পলাশকে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রোজেক্টের কাজ শেষ করা হয়নি এবং বিদ্যন টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্যন স্মৃতি এবং পলাশের বিয়েতে কি হয়েছিল, সে বিষয়েও কথা বলেন এবং জানান যে পলাশ স্মৃতিকে প্রতারণা করেছেন। এরপরে পলাশ বিদ্যনের নামে ১০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন।
স্মৃতির বিয়ের বিস্ফোরক ঘটনা প্রকাশ বিদ্যনের
বিদ্যন দাবি করেছেন, তিনি নাকি পলাশ আর স্মৃতির বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। ২ পরিবারের সবাই যখন বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করছেন, যাবতীয় নিয়মকানুন মানা হচ্ছে, সেই সময়েই পলাশ অন্য একটি মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। বিদ্যন প্রকাশ্যে আনেননি, সেই মহিলা কে। তবে বিদ্যন দাবি করেছেন, দৃশ্যটা ছিল ভয়াবহ। পলাশ সেই মহিলার সঙ্গে একেবারে বিছানায় ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটাচ্ছিলেন। সেই সময়েই একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়েন। গোটা পরিস্থিতি সামনে চলে আসার পরেই বিস্ফোরণ ঘটে! বিদ্যন আরও দাবি করেছেন, গোটা বিষয়টা জানতে পেরে চটে যায় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রত্যেকেই। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের সবাই উপস্থিত ছিলেন স্মৃতির বিয়ে উপলক্ষ্যে। পলাশের এই কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই চটে যান প্রত্যেকেই। পলাশকে নাকি মহিলা দলের ক্রিকেটাররা মিলে মারধর পর্যন্ত করেন। বিদ্যন আরও জানান, তিনি মনে করেছিলেন, স্মৃতির সঙ্গে বিয়ের পরে পলাশের জীবনে বড় বদল আসবে। পলাশ হয়তো স্মৃতির সঙ্গে বিয়ে করে সাঙ্গলিতে থিতু হবেন। কিন্তু বিদ্যনের মনে হয়, গোটা বিষয়টা উল্টে গেল। বিদ্যনের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনা দেখার পরেই বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন স্মৃতি।
(Feed Source: abplive.com)
