জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডান চোখে রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি। দিনের পর দিন জেলে অত্যাচার ও অবহেলার জেরে এক চোখের পুরো দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমনটাই একটি মেডিক্য়াল টিমের রিপোর্টে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি ইমরান খানের পার্টি পাকিস্তান তেহরিক ই ইননসাফ(পিটিআই) এর তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রাক্তন পাক অধিনায়ককে জেল থেকে অত্যন্ত গোপনে জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ইমরানের পরিবারের দাবি, ৭৩ বছরের ইমরান খানকে যে হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হচ্ছে তা তার পরিবারেক জানানো হয়নি। পিটিআইয়ের দাবি, ইমরান খানকে যেখানেই ভর্তি করা হোক বা যে ওষুধই দেওয়া হোক না কেন তা করতে হবে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে। তা না হলে যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন জেলে তাকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরান খানের অসুস্থতার খবর পেয়ে, তাঁর সতীর্থ ওয়াসিম আক্রম বলেছেন, ইমরান খানের উপযুক্ত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হোক। ওয়াসিম আক্রাম ইমরানকে সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এর আগে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ব্যারিস্টার সালমান আদালতের প্রতিনিধি হিসেবে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
সালমান তাঁর রিপোর্টে জানান, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে এবং তাকে জরুরি ভিত্তিতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপর আদালত প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ১৬ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইমরান খানের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তিই একদম স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এরপর থেকে তিনি ক্রমাগত ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পুরোপুরি কেড়ে নেয়। ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’ (PIMS)-এর একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে জানান যে, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তার চোখের এই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসা করা হলেও তার দৃষ্টিশক্তি মাত্র আংশিকভাবে ফিরে এসেছে।
পিটিআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের জেল আইন অনুযায়ী কোনো বন্দির শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসা বা স্থানান্তরের আগে তার পরিবার ও ডাক্তারদের জানানো বাধ্যতামূলক। তারা ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে যেকোনো ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, অতীতের মতো আবারও তথ্য গোপন করা মানে হল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও জীবনকে জেনেশুনে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত কর্তৃপক্ষকে আরও নির্দেশ দিয়েছে যেন ইমরান খানের সঙ্গে যেন তাঁর দুই ছেলে—কাসিম ও সুলায়মানের টেলিফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তারা এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, জিও নিউজ ও ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, কারাবিধি মেনেই ইমরান খানকে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
