
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজপাল যাদবের ভাইঝির বিয়ে। শাহজাহানপুরে আয়োজিত এই পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই তিনি সাময়িক মুক্তির আবেদন করেছিলেন। আদালত শর্তসাপেক্ষে সেই আর্জি মেনে নিয়েছে। তবে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিমান্ড ড্রাফট জমা না পড়লে মঙ্গলবার সকালেই ফের শুনানি শুরু হত।
আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীর কাছে ১.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার পরই আদালত থেকে এই সাময়িক স্বস্তি মেলে অভিনেতার। ফলে ১১ দিন তিহার জেলে কাটানোর পর আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন রাজপাল।
অভিযোগ, একটি ঋণ সংক্রান্ত চুক্তিতে বারংবার আদালতের নির্দেশ সত্বেও টাকাপয়সা শোধ করা হয়নি রাজপালের তরফে। যার জেরে শুরু হয় আইনি লড়াই। এই আইনি সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য ‘মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসে সফল না হওয়ায় তিনি গভীর আর্থিক সংকটে পড়েন। পরবর্তীতে ঋণ শোধের জন্য তিনি যে চেকগুলো দিয়েছিলেন, তা বাউন্স করে। ফলস্বরূপ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৮ সালের এপ্রিলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। বছরের পর বছর ধরে চলা আপিল ও আইনি প্রক্রিয়ার মাঝে ঋণের পরিমাণ সুদে-আসলে প্রায় ৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অভিনেতা এর মাঝে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালে ৭৫ লক্ষ টাকা দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা অভিনেতার আরও এক সপ্তাহ সময় চাওয়ার আবেদন নাকচ করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, জনপরিচিতি থাকলেও বারবার ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
(Feed Source: abplive.com)
