West Bengal Assembly Election 2026: ভোটের আগেই ভোটের রেজাল্ট আউট! ছাব্বিশে ছক্কা হাঁকাচ্ছে তৃণমূলই… বলছে ‘সোশ্যাল’ সংখ্যাতত্ত্ব…

West Bengal Assembly Election 2026: ভোটের আগেই ভোটের রেজাল্ট আউট! ছাব্বিশে ছক্কা হাঁকাচ্ছে তৃণমূলই… বলছে ‘সোশ্যাল’ সংখ্যাতত্ত্ব…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোটের আগেই ভোটের রেজাল্ট আউট! যার প্রমাণ মিলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই। আর সেই রেজাল্টা বলছে, ২০২১-এর পর ২০২৬ বিধানসভা ভোটেও ছক্কা হাঁকাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউজ প্যারামিটার বলছে, মানুষের তৃণমূলের সম্পর্কে জানতে পছন্দ করে। তৃণমূলের কথা, মমতা বন্দ্যোপধ্য়ায়ের কথা শুনতে পছন্দ করে।

ফেসবুক থেকে ইউটিউব বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্যারামিটার হল ‘রিচ’। মানে তুমি কত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছ? কত মানুষ তোমাকে দেখছে? আর সেই ‘রিচ’ মাপার মাপকাঠি হল ‘ভিউজ’। আর সেই ভিউজেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ১০ গোলে টেক্কা দিয়েছে তৃণমূল।

শীর্ষে তৃণমূল…

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের ইউটিউব ভিউজের ৪ ফেব্রুয়ারির লেটেস্ট রিপোর্ট বলছে, ৩১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি, এই ২ দিনে তৃণমূলের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে যত ভিডিয়ো আপলোড হয়েছে, তার মোট ভিউজ ৭৮.৯ মিলিয়ন, মানে ৭ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ সেই ভিডিয়ো দেখেছে। শতাংশের বিচারে মোট ইউটিউব ভিডিয়ো দেখার হিসেবে যা ৪৩ শতাংশ। তারপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। যার মোট ভিউজ ৪৩.২ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৩২ লাখ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস। যার মোট ভিউজ ৩২.৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ২৬ লাখ। শতাংশের নিরিখে যা যথাক্রমে ২৩% ও ১৮%।

দু’ অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাননি মোদী…

আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বের দরবারে অন্যতম ‘ক্যারিশমাটিক পার্সোনালিটি’র আখ্যা পাওয়া নরেন্দ্র মোদীর ইউটিউব ভিউজ দু’ অঙ্কের ঘরেই পৌঁছায়নি। মোট ইউটিউব ভিউজ মাত্র ৮.৬ মিলিয়ন। মানে ১৪৬ কোটির দেশ ভারতের মাত্র ৮৬ লাখ মানুষ ইউটিউবে নরেন্দ্র মোদীকে সার্চ করেছেন ও ভিডিয়ো দেখেছেন। শতাংশের বিচারে যা মাত্র ৫%।

সপ্তাহের পর সপ্তাহ শীর্ষে তৃণমূল…

উল্লেখ্য, এটা শুধু একসপ্তাহের রিপোর্ট নয়। ধারাবাহিক ভাবে সোশ্যালে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক অতীতে চোখ বুলালে দেখা যাবে,  সপ্তাহের পর সপ্তাহ, ইউটিউব ভিউজে তৃণমূল-ই শীর্ষে। ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আপলোড করা ভিডিয়োর রিপোর্ট, সেখানেও ২৮.১ মিলিয়ন (২ কোটি ৮১ লাখ) ভিউজ নিয়ে শীর্ষে তৃণমূল। দ্বিতীয় স্থানে হলেও, ১৭.৬ মিলিয়ন নিয়ে নরেন্দ্র মোদী প্রতিযোগিতায় তার অনেকটা নীচে। আর ভারতীয় জনতা পার্টি ০.৯ ও ১.৬ মিলিয়ন (৯ লাখ ও ১৬ লাখ) ভিউজ নিয়ে তৃণমূলের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেনি।

বিজেপি দেখে ১%!

এই রিপোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, গেরুয়া শিবির যে ‘ছাপান্ন ইঞ্চি ছাতি’র গর্ব করে, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার নিরিখে তাঁর অবস্থানটা এই মুহূর্তে ঠিক কোথায়? তাঁর দলেরই বা গ্রহণযোগ্যতা কত শতাংশের কাছে? মাত্র ১ শতাংশ মানুষ বিজেপির ইউটিউব চ্যানেল দেখে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন আর শুধু আঞ্চলিক দল নয়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোথাও সরকারে বা বিরোধী আসনে না থাকলেও, জাতীয় পরিসরে বিজেপি বিরোধী হিসেবে তৃণমূল একটা ফ্যাক্টর। তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও চর্চা দুই-ই রয়েছে।

‘মানুষের জন্য মমতা’ ভাবমূর্তি… 

আর এই কৌতূহল বা উৎসাহের অন্যতম কারণ হল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মাঠে-ময়দানে নেমে ‘মেঠো রাজনীতি’। তাঁর ‘মানুষের জন্য লড়াইয়ের’ ভাবমূর্তি বিরোধীদের পিছনে ফেলে এক মাইলস্টোন তৈরি করেছে। যার অন্যতম উদাহরণ, বাংলায় SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দরবার। এমনকি আইনজীবীর কালো কোট গায়ে চাপিয়ে নিজে শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে SIR নিয়ে সওয়াল করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যা-ই থাকুক না কেন, মমতার এই ঐতিহাসিক সওয়ালের প্রশংসা শোনা গিয়েছে অনেক বিরোধী কণ্ঠেও।

মোদীর বিকল্প মুখ মমতা!

প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দেশে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A ব্লকে মোদীর বিকল্প মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে এগিয়ে রাখছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারুও। তাঁর মতে মমতা ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ হলে তা লাভজনক-ই হবে। মমতার এই জনপ্রিয়তা-ই যে তৃণমূলের ভোট বৈতরণী পারের একমাত্র ও অন্যতম অবলম্বন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

(Feed Source: zeenews.com)