Bangladesh Election 2026: তারেক প্রধানমন্ত্রী হয়ে কত টাকা বেতন পাবেন? বাংলাদেশে মন্ত্রী হলে কী সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়? জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার…

Bangladesh Election 2026: তারেক প্রধানমন্ত্রী হয়ে কত টাকা বেতন পাবেন? বাংলাদেশে মন্ত্রী হলে কী সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়? জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, মঙ্গলবার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করছে একটি নির্বাচিত সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঐতিহাসিক জয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিপরিষদ আজ বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। নবনির্বাচিত এই মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই মনোনীতদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় এই গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ঠিক কত টাকা বেতন পান এবং সরকারিভাবে কী কী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। মূলত ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ বিল’ এবং ‘দ্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ বিল’ (২০১৬-এর সংশোধনী) অনুযায়ী তাঁদের এই আর্থিক কাঠামো নির্ধারিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধা

দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মাসিক বেতন পান ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বেতনের পাশাপাশি তিনি মাসে ১ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া এবং দৈনিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন বরাদ্দ থাকে, যার রক্ষণাবেক্ষণ ও সাজসজ্জার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করে।

মন্ত্রীদের বেতন ও বৈচিত্র্যময় সুবিধা

একজন পূর্ণ মন্ত্রী মাসিক বেতন পান ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। উল্লেখ্য যে, ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং চিফ হুইপরাও পদের পদমর্যাদা অনুযায়ী সমান বেতন পান। মন্ত্রীদের বেতনের ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। বেতনের বাইরে একজন মন্ত্রী যেসব উল্লেখযোগ্য সুবিধা পান:

ভাতা ও তহবিল: দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা, মাসিক ১০ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা (সাসটেইন্যান্স অ্যালাউন্স) এবং বার্ষিক ১০ লাখ টাকার একটি ‘স্বেচ্ছাধীন তহবিল’।

বাসস্থান ও আসবাবপত্র: বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবন, যেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল সরকার দেয়। সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রাষ্ট্রীয় খরচে দেওয়া হয়। যদি কোনো মন্ত্রী সরকারি বাসায় না থাকেন, তবে তিনি মাসিক ৮০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ব্যবস্থাপনা খরচ পান।

পরিবহন ও যোগাযোগ: সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা এবং ঢাকার বাইরে সফরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি। এছাড়া মোবাইল ফোন কেনার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত স্টাফ: একজন উপ-সচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিব (PS), দুইজন সহকারী একান্ত সচিব, ১০ম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা ছাড়াও জমাদার, পাচক ও পিয়নসহ মোট একঝাঁক সরকারি কর্মচারী তাঁদের সহায়তায় থাকেন।

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের আর্থিক কাঠামো

মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের সদস্যদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা।

প্রতিমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রীদের মাসিক বেতন ৯২ হাজার টাকা। তাঁরা দৈনিক ১,৫০০ টাকা ভাতা এবং মাসে ৭,৫০০ টাকা নিয়ামক ভাতা পান। তাঁদের স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৭ লাখ টাকার। সরকারি বাসায় না থাকলে তাঁরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পান।

উপমন্ত্রী: একজন উপমন্ত্রী মাসিক বেতন পান ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁদের নিয়ামক ভাতা মাসিক ৫ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৫ লাখ টাকার। বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রতিমন্ত্রীদের মতোই, তবে আসবাবপত্রের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা।

অন্যান্য বিশেষ সুবিধা

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীরা সবাই সরকারি খরচে রেল ও বিমানে ভ্রমণের সুবিধা পান। বিমান ভ্রমণের জন্য তাঁদের প্রত্যেকের নামে ৮ লাখ টাকার বীমা সুবিধা থাকে। এছাড়া তাঁদের বাসভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী বা গানম্যান মোতায়েন থাকে। যারা মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা সংসদ সচিবালয় থেকেও কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি যখন ক্ষমতার মসনদে ফিরছে, তখন এই নতুন মন্ত্রিসভা কেবল এই সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করবে না, বরং ১৮ মাসের শূন্যতা কাটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনসেবার গুরুদায়িত্বও তাঁদের কাঁধে থাকবে। আজ বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)