‘ভারতই দেবে, আমেরিকা নয়’, বলছেন ট্রাম্প, নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কি কার্যকর হবে?

‘ভারতই দেবে, আমেরিকা নয়’, বলছেন ট্রাম্প, নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কি কার্যকর হবে?
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের খাঁড়া নামার পর পরই নতুন সিদ্ধান্ত। নতুন হারে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সমস্ত দেশের উপর ওই বাড়তি ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানা যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভারতের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। (Donald Trump Tariffs)

ট্রাম্প সরকারের আগের সব শুল্ককে শুক্রবারই ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। তার ঠিক পর পরই নতুন হারে বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সোশ্য়াল মিডিয়ায় লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের যাঁরা আমাদের গ্রহণযোগ্য এবং সঠিক শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত। হাস্যকর রায়। আগের চেয়ে বেশি অর্থ যাতে উঠে আসে, তার জন্য সব কিছু করব আমরা। সেই মতো সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু হল’। (US Tariffs on India)

আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতকে এখন কত হারে শুল্ক দিতে হবে? সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়, তাতে আগে দু’দফায় চাপানো ৫০ শতাংশের পরিবর্তে, ভারত ১৮ শতাংশ শুল্ক দেবে বলে ঠিক হয়েছিল। নতুন করে ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক চালু করায়, ভারতকে আগের ১৮ শতাংশের সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ২৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে কি না, না কি ১৮ থেকে কমে ভারতের প্রদত্ত শুল্কের হার ১০ শতাংশে এসে ঠেকবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউস। তবে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক বাতিল করলে, ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। চুক্তি বহাল থাকবে। সেই সময় ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। আমরা ভারতের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য করছি। ভারত রাশিয়া থেকে সরে গিয়েছে। আগে রাশিয়ার থেকে তেল কিনছিল। আমার অনুরোধে পিছু হটেছে। কারণ আমরা ওই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ রুখতে চাই, যাতে প্রতি মাসে ২৫০০০ করে মানুষ মারা যাচ্ছেন।”

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) শুল্ক দেবে, আমরা দেব না। ভারতের সঙ্গে চুক্তি এই মর্মেই হয়েছে। অর্থাৎ আগে যা ছিল, তার বিপরীত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাল মানুষ। বেশ চালাক। উনি আমাদের থেকে নিয়েই যাচ্ছিলেন। তাই ওদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, যাতে ওরা শুল্ক দিচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছি।”

নতুন করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্বও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, “আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ রুখে দিয়েছি। ১০টি বিমান নামানো হয়েছিল। পরমাণু যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছিল পরিস্থিতি। গতকালই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ট্রাম্প ৩.৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। মূলত শুল্কের দ্বারাই এই কাজ করেছি আমি। ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি দিই। তাতেই ফোন করে জানায়, শান্তির জন্য প্রস্তুত ওরা।” 

এর আগে ভারতের উপর দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপায় আমেরিকা। সম্প্রতি বাণিজ্যশুল্কের যে কাঠামো প্রস্তুত করা হয়, তাতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু নতুন যে ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক চালু করেছেন ট্রাম্প, ভারতের উপরও তা চাপবে কি না, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি এখনও পর্যন্ত।

(Feed Source: abplive.com)