ইতিহাস গড়ার পথে আকিব নবিরা! চার দিনের খেলাশেষে রঞ্জি ফাইনালের রাশ জম্মু ও কাশ্মীরের হাতে

ইতিহাস গড়ার পথে আকিব নবিরা! চার দিনের খেলাশেষে রঞ্জি ফাইনালের রাশ জম্মু ও কাশ্মীরের হাতে
হুব্বাল্লি: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরেই চলতি মরশুমের রঞ্জি (Ranji Trophy 2025-26) চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যাবে। অবশ্য সরকারিভাবে এখনও চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত না হলেও, চার দিনের খেলাশেষে দেওয়াল লিখনটা স্পষ্ট। অলৌকিক কিছু না ঘটলে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির খেতাব উঠতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীরের হাতে। চতুর্থ দিনের খেলাশেষে পারস ডোগরার দল আপাতত দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৭ রানে এগিয়ে রয়েছে। হাতে এখনও ছয় উইকেট রয়েছে তাঁদের।

কর্ণাটকের হুব্বালিতে রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল কিন্তু ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ ড্র হলে প্রথম ইনিংসে যে দল লিড পায়, তারাই সেই ম্যাচ জিতে নেয়। জম্মু ও কাশ্মীর কিন্তু কর্ণাটকের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে বিরাট লিড নিতে সক্ষম হয়েছে। সেই লিডের সুবাদেই তাঁরা ইতিহাস গড়ার পথে। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে যে ক্রিকেটার বারংবার জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে ম্য়াচ উইনার হিসাবে সামনে এগিয়ে এসেছেন, এই ম্যাচেও তিনিই ফের একবার নিজের জাত চেনালেন। কথা হচ্ছে আকিব নবিকে (Auqib Nabi) নিয়ে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মিডিয়াম ফাস্ট বোলার রঞ্জি ট্রফির প্রথম ইনিংসে তারকাখচিত কর্ণাটক দলের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিলেন। তাঁর পাঁচ উইকেটের সুবাদেই প্রথম ইনিংসে মহাগুরুত্বপূর্ণ লিড পায় জম্মু ও কাশ্মীর। চতুর্থ দিনের শুরুটা করেছিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন অধিনায়ক ময়ঙ্ক আগরওয়াল এবং ক্রুতিক কৃষ্ণ। দুইজনেই সেট ছিলেন। ময়ঙ্ক তো সেঞ্চুরিও হাঁকিয়ে ফেলেছিলেন। তবে দিনের শুরুর দিকেই সাহিল লোথরা কৃষ্ণকে ৩৬ রানে ফিরিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে বড় সাফল্য এনে দেন।

কর্ণাটক ২৫০ রানের গণ্ডি পার করার পরেই বাঁ হাতি সুনীল কুমাররে বলে বিদ্যাধর পাতিল আউট হন। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট চালান ময়ঙ্ক আগরওয়াল। দলের বাকি ব্যাটাররা যেখানে কেউই ৫০ রানও করতে পারেননি, সেখানে ময়ঙ্ক ১৫০ রান পূরণ করে ফেলেন। তবে তাঁর ইনিংসও থামান সেই আকিব নবিই। ১৬০ রানে আউট হন ময়ঙ্ক। তাঁর আউট হওয়ার পর বেশিদূর এগোতে পারেনি কর্ণাটক। ২৯৩ রানেই গুটিয়ে যায় গোটা দল। ২৯১ রানের লিড পায় জম্মু ও কাশ্মীর। পাঁচ উইকেট নেন নবি। প্রথম জম্মু ও কাশ্মীর বোলার হিসাবে রঞ্জি মরশুমে ৬০ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি।

তবে গত ম্যাচে জম্মু ও কাশ্মীর লিড না পেলেও, বাংলাকে শতরানের মধ্যে অল আউট করে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। কর্ণাটকও এমন কিছুই করার আশায় ছিল। কর্ণাটক সমর্থকদের আশা আরও বাড়ে যখন প্রথম ইনিংসে দুরন্ত ব্যাট করা ইয়াবর এবং শুভম পুন্দিরকে যথাক্রমে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং বিশাখ এক ও চার রানে ফেরান। ১১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়ক পারস ও কামরান ইকবাল দলের ইনিংস সামলান। দুইজনে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়েন।

কামরান কিন্তু চতুর্থ দিনশেষে ৯৪ রানে অপরাজিত। তিনি প্রথমে পারস তারপর আব্দুল সামাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চম উইকেটে সাহিলের লোথরার সঙ্গেও ৪১ রান যোগ করে ফেলেছেন কামরান। দিনশেষে জম্মু ও কাশ্মীরের স্কোর চার উইকেটে ১৮৬ রান। এখনও যদি কর্ণাটকের বিন্দুমাত্র জয়ের আশা থাকে, সেই আশাও কাল জম্মু ও কাশ্মীর যত ব্যাট করবে, তার সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পাবে। এবার দেখার কেএল রাহুল, ময়ঙ্ক, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণদের কর্ণাটক কাল অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারে কি না।

(Feed Source: abplive.com)