জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইজরায়েল ইরান যুদ্ধ (Israel attacks Iran) তাহলে বেঁধেই গেল। ইরানে ৩০ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হয়েছে হামলা। প্রত্যাঘাত হতে পারে এই আশঙ্কায় ইজরায়েল বন্ধ করেছে এয়ারস্পেস, শহরে শহরে বাজছে সাইরেন। এরই মধ্যে একইদিনে দিনে ১৫টি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক এল বেজিং থেকে। চিন— যে দেশ ইরানের সবচেয়ে বড় তেলের খদ্দের, রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের ঢাল, গত বিশ বছর ধরে পশ্চিমের প্রতিটি নিষেধাজ্ঞাকে আটকে দিয়েছে — সেই চিন বৃহস্পতিবার তার নিজের নাগরিকদের বলল, “উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি” রয়েছে, অবিলম্বে সরে পড়ুন। কথাটা মাথায় রাখুন — যখন আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধু নিজেই তার লোকজনকে আপনার দেশ থেকে পালাতে বলে, তার মানে হল সে এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে যা আপনার কাছে নেই। তিনটি সংকেত — যা একসঙ্গে আগে কখনও হয়নি।
প্রথম সংকেত: সামরিক। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহর এখন ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বেশি। রয়েছে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, দেড়শোরও বেশি যুদ্ধবিমান। সবচেয়ে চমকের বিষয় — ২১ বছরের পুরনো F-22 ব়্যাপ্টর যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো ইজরায়েলে পাঠানো হয়েছে। কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে ২৬ দিনে ১৮টি ট্যাংকার বিমান সরিয়ে শূন্য করা হয়েছে — ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুরো মার্কিন হামলার কাঠামো।
দ্বিতীয় সংকেত: কূটনৈতিক। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১৫টিরও বেশি দেশ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে — চিন, ভারত, কানাডা, জার্মানি, সুইডেন, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, সার্বিয়া। এই দেশগুলো সাধারণত ইরানকে নিয়ে এক সুরে কথা বলে না। একই দিনে একই সতর্কতা দিতে হলে তাদের একটাই ব্যাখ্যা — একটি গোপন গোয়েন্দা বৈঠক থেকে সবাই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তৃতীয় সংকেত: ইরানের ভেতরের ছবি ভয়ংকর। দেশের অর্থনীতি বরাদ্দের মাত্র ৩৯ শতাংশে চলছে। শেয়ারবাজার ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। চাকরির বাজার প্রায় ৮১ শতাংশ সংকুচিত। একাধিক প্রদেশে পানীয় জলের সংকট চরমে। সরকার প্রতিবাদ দমন করতে পুরো পাড়ার বিদ্যুৎ কেটে দিয়ে অন্ধকারে নিজের নাগরিকদের গুলি করছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা শতাধিক। অন্ধকারে ডুবে থাকা এলাকায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক হামলার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। এবারের পরিস্থিতি কি সত্যিই আলাদা?
২০২০ সালে সোলেইমানি হত্যার পরেও মার্কিন সামরিক তৎপরতা ছিল, কিন্তু গণ-উচ্ছেদ ছিল না, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও স্থিতিশীল ছিল। ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে আংশিক উচ্ছেদ হয়েছিল, কিন্তু দেশের ভেতরে জলসংকট বা গণহত্যার ছবি ছিল না।
২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার, যখন মার্কিন-ইরান সংঘাতের ৪৫ বছরের ইতিহাসে তিনটি সংকেতই একসঙ্গে সর্বোচ্চ মাত্রায় জ্বলছে — সামরিক, কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ। জেনেভায় বৃহস্পতিবারের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি । ট্রাম্পের ডানহাত রুবিও সোমবার জেরুজালেমে যাচ্ছেন। একই দিনে ভিয়েনায় শুরু হচ্ছে আরেকটি বৈঠক।
বাজার এখনও তেলের দাম ধরে রেখেছে ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারে— যেন একটা মধ্যস্থতায় সব মিটে যাবে। কিন্তু যে ১৫টি দেশ নিজেদের নাগরিক সরিয়ে নিয়েছে, তারা সেই দামে বিশ্বাস করছে না। আর চিন— যার হাতে ইরানের ভেতরে সবচেয়ে বেশি গোয়েন্দা তথ্য — সবচেয়ে আগে, সবচেয়ে জোরাল ভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
