Mohun Bagan vs Mohammedan: রবসনের সাম্বা ম্যাজিকে ডার্বিতে দানব মোহনবাগানের ৫ গোল মহামেডানকে…

Mohun Bagan vs Mohammedan: রবসনের সাম্বা ম্যাজিকে ডার্বিতে দানব মোহনবাগানের ৫ গোল মহামেডানকে…

শুভপম সাহা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনি সন্ধ্যার চিত্রনাট্য মোটামুটি প্রায় সকলেরই আগে থেকে জানা ছিল। ধারে ভারে প্রায় কয়েকশো গুণ এগিয়ে থাকা মোহনবাগান যে, আইএসএসল ডার্বিতে দুর্বল মহামেডানকে একেবারে পিষে দেবে, তা অনুমান করার জন্য বঙ্গজ ফুটবলের বিশেষজ্ঞ না হলেও চলত। মোটের উপর মোহনবাগান দলের গতিবিধিতে নজর রাখাই যথেষ্ট। যা হওয়ার ছিল, ঠিক সেটাই ঘটল। মেরিনার্স পাঁচ গোলের রোডরোলার চালাল ব্ল্যাক প্যান্থার্সের উপর। এর সঙ্গেই ৩ ‍ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে এখন লিগ শীর্ষে চলে গেল মোহনবাগান।

Add Zee News as a Preferred Source

এদিন খেলা শুরুর ঠিক ১ মিনিট থেকে ৩ মিনিট, দর্শকদের চোখের পলক ফেলতে দেয়নি মোহনবাগান! কখনও কামিংস-তো কখনও রবিনহো আবার কখনও আপুইয়া! মহামেডানের গোল লক্ষ্য করে লাগাতার শট নিলেন তাঁরা। স্রেফ অল্পের জন্য গোলের দেখা পেলেন না! বোঝাই যাচ্ছিল গোল পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। তবে ১২ মিনিটে চমকে দেয় মহামেডান| লালনগাইসাকার কর্নার থেকে লালথানকিমা দুরন্ত হেডে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। তবে ওই শুরু, ওই শেষ।

মেহেরাজুদ্দিন ওয়াডুর টিম খুব ভালোভাবেই জানত যে, প্রতিপক্ষ ‘ডাবল চ্যাম্পিয়ন’। ফলে যখন তখন প্রত্যাঘাত হতে পারে| আর মোহনবাগান ১৫ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে, প্রতিপক্ষের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দিল। সৌজন্যে আগুনে রবসন রবিনহো।

২২ মিনিটে কামিংসের পাস থেকে সামান্য ডিফ্লেকট হওয়ার পরেও রবসন গোল করে আগে সমতা ফেরান দলের। এরপর গোলের পাঁচ মিনিটের মধ্যে আবার গোল ব্রাজিলিয়ান স্টারের| প্রথমে মনবীরের নেওয়া শট বোরা ব্লক করে দিয়েছিলেন, তবে রিবাউন্ডে বল চলে যায় রবসনের পায়ে। আইএসল কেরিয়ারের প্রথম গোল এবং দ্বিতীয় গোল একই সন্ধ্যায় করলেন গতবছর সেপ্টেম্বরে মোহনবাগানে যোগ দেওয়া বিদেশি।

বিরতির আগেই মোহনবাগান স্কোরলাইন ৩-১ করে ফেলে। খেলার বয়স তখন ৩৫ মিনিট। অ্যামি ডান দিক থেকে দারুণ একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন বক্সের মাঝখানে, আর সেখানে উঠে এসে হেড নেন কামিন্স। শুভজিৎ প্রথম চেষ্টায় অসাধারণ দক্ষতায় সেই হেড ঠেকিয়ে দেন, কিন্তু রিবাউন্ডে আর কিছু করারই ছিল না তাঁর। বলটি গিয়ে পড়ে ম্যাকলারেনের সামনে, আর তিনি একেবারে ছয় গজ দূর থেকে থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন। তবে সাম্বা ম্যাজিক দেখানো রবসন বিরতির আগেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৯ মিনিটে সের্জিও লোবের রবসনকে তুলে পেত্রাতোসকে নামান।

বিরতির পরেও সবুজ-মেরুনের ভয়ংকর ঝাঁজে পুড়ল
সাদা-কালো| গোলের পর গোল করেই গেল। খেলার ৬২ মিনিটে এবার পার্টিতে যোগ দিলেন মনবীর সিং।
টেকচাম বক্সের ভিতর অসাধারণ মাপা বল ভাসিয়ে দেন। আর সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং হেডারে জালে বল জড়িয়ে দেন মনবীর। মনবীরের নিখুঁত টাইমিং আর ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে মহামেডানের রক্ষণ কেঁপে যায় পুরো। এরপর ৭০ মিনিটে দিমি স্টেইনগান চালিয়ে দেন। দিমি দেখলেন যে, বলটা শুভজিতের সামনে বাউন্স করার সময় তিনি একটু লাইন ছেড়ে এগিয়ে আছেন। তখনই জোরাল শট নেন অজি। আচমকাই শুভজিৎকে  অপ্রস্তুত মহামেডানের গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। দিমির গোলেই মোহনবাগানের পাঁচ গোলের মালা পরানো হয়ে যায় মহামেডানকে। দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত চার মিনিট যোগ করেন রেফারি। তবে স্কোরলাইন ৫-১ থেকে যায়| তবে এদিন মহামেডান গোলকিপার শুভজিৎ ভট্টাচার্য কয়েকটা সেভ করে দিলেন বলেই মোহনবাগান ৮-৯ গোল করতে পারল না।

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আমে রানাওয়াড়ে (সাহাল), অনিরুদ্ধ থাপা (কিয়ান), রবসন রবিনহো (দিমি), মনবীর সিং, অ্যালবার্তো রড্রিগেজ, দীপক টাংরি (কোলাসো), টেকচাম অভিষেক সিং, জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিংস (অলড্রেড) আপুইয়া

(Feed Source: zeenews.com)