জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব অর্থনীতির একটা অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব আছে। বাজারে ভয় ঢুকলেই বিনিয়োগকারীরা দৌড়ান নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। সেই আশ্রয়ের নাম বহু বছর ধরে—সুইস ফ্রাংক (Swiss Franc)।
কেন এমনটা হয়?
নিরপেক্ষতার শক্তি
সুইৎজারল্যান্ড (Switzerland) রাজনৈতিক ভাবে নিরপেক্ষ, আর্থিক ভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশ্বস্ত। কয়েক দশক ধরে এই দেশ আন্তর্জাতিক পুঁজি সংরক্ষণের নিরাপদ ঘাঁটি। যখন ইউরোপে অস্থিরতা বাড়ে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গন্ধ ভাসে, বা আমেরিকায় আর্থিক টানাপড়েন দেখা যায়—তখন বড় ফান্ডগুলি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করে সুইস ব্যাংকে টাকা রাখে। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। এটাই মুদ্রা বাজারের সহজ অঙ্ক।
পাউন্ডের টালমাটাল পথ
অন্যদিকে পাউন্ড (British Pound) গত কয়েক বছরে নানা ধাক্কা সামলেছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্থরতা—সব মিলিয়ে পাউন্ডের শক্তি আগের মতো স্থির নেই। বিশ্ব বাজারে যখন ‘রিস্ক অফ’ মুড তৈরি হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা উচ্চ রিটার্নের বদলে নিরাপত্তা চান। তখন পাউন্ডের চেয়ে সুইস ফ্রাংকের দিকে ঝোঁক বাড়ে।
ভারতীয় মুদ্রার বাস্তবতা
এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রুপি (Indian Rupee) কোথায়? রুপি এখনও ‘সেফ-হেভেন’ নয়। কারণ ভারত একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি—এখানে সম্ভাবনা বেশি,কিন্তু বৈদেশিক পুঁজির ওপর নির্ভরশীলতাও আছে। তবে এটাও সত্যি, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শক্তিশালী। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে রুপির অতিরিক্ত ওঠানামা আটকায়। ফলে রুপি ভেঙে পড়ে না,আবার সুইস ফ্রাংকের মতো বিশ্ব-আশ্রয়ও হয়ে ওঠেনি।
তাহলে ভারতের জন্য বার্তা কী?
১. বিশ্বে অস্থিরতা বাড়লে সুইস ফ্রাংক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
২. পাউন্ডের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতির ওপর।
৩. রুপির পথ আলাদা—দেশীয় প্রবৃদ্ধি, তেলের দাম, এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ তার দিক ঠিক করবে।
বিশ্ব যখন দুলছে, সুইস ফ্রাংক তখন স্থির পাহাড়ের মতো। পাউন্ড লড়াই করছে ভারসাম্যের জন্য। আর ভারত? ভারত নিজের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্ত করে ধীরে, কিন্তু স্থিরভাবে এগোতে চাইছে।
(Feed Source: zeenews.com)
