India’s Oil Supply Explained: মাত্র ২৫ দিনের তেল আছে ভারতের, হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ হতেই মহাসঙ্কট, সোনা-রুপোর দামেও বিরাট প্রভাব

India’s Oil Supply Explained: মাত্র ২৫ দিনের তেল আছে ভারতের, হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ হতেই মহাসঙ্কট, সোনা-রুপোর দামেও বিরাট প্রভাব

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ভয়াবহ পরিণতির প্রভাব ভারতেও পড়ছে। তেল-বাণিজ্য-শেয়ার মার্কেট এবং সোনা-রুপোর দামের উপর বিরাট প্রভাব ফেলতে চলেছে। গত শনিবার আমেরিক-ইজরায়েল যৌথ ভাবে ইরানে হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা দিতে শুরু করেছে। যুদ্ধ যদি আরও তীব্র হয় তাহলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যা এখন কার্যত বন্ধ বললেই চলে। এর ফলে ভারতের মাসিক তেল সরবরাহের অর্ধেক বিপন্ন হয়ে পড়বে!

‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালী কী?

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং সেখান থেকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এক পাশে ইরান। অন্য পাশে রয়েছে ওমান (বিশেষ করে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ)। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। বিশ্বের প্রায় ২০% তেলই (প্রতি দিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল) এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ উপসাগরীয় দেশগুলির তেল রফতানির প্রধান পথ- হরমুজ প্রণালী ঠিক এই কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়েল করিডর’। এই জলপথকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান। এখানেই শেষ নয়, ইরান হুঙ্কার দিয়েছে যে, এই পথ দিয়ে কোনও জাহাজ গেলেই তা জ্বালিয়ে দেবে ইরান। আইনত হরমুজ প্রণালী এখনও আন্তর্জাতিক ভাবে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু বাণিজ্যিক ট্রাফিক প্রায় স্তব্ধ, নিরাপত্তা হুমকি এবং মারাত্মক ঝুঁকি থাকায় জাহাজগুলি স্বেচ্ছায় এখন সেই পথ ধরছে না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০–১০০টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। এর মধ্যে রয়ছে-তেলবাহী ট্যাংকার, এলএনজি বহনকারী জাহাজ, কন্টেইনার শিপ ও বাল্ক কার্গো জাহাজ প্রতিদিন প্রায় ১.৭–২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট এই প্রণালী দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০%।

হরমুজ প্রণালী বন্ধে ভারতে প্রভাব  

ভারত তার বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেলই সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং আমিরশাহীর মতো দেশগুলি থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে। যদি ইসরায়েল-ইরানের তেল স্থাপনাগুলিতে আক্রমণ করে অথবা ইরান  হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখে দেয়, তাহলে সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হবে। এর প্রভাব ভারতের পাশাপাশি বিশ্ব তেল বাজারেও মহাসঙ্কট আসবে। হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন ২৬ লক্ষ ব্যারেল তেল ভারতে আসে। ভারত এই পথ দিয়ে প্রতিদিন তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল আমদানি করে। কেপলারের তথ্য অনুসারে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মোট মাসিক তেল আমদানির প্রায় ৫০% হরমুজ পথ দিয়ে এসেছিল। এই সংখ্যা এখন ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ৪০% থেকে বেড়ে গিয়েছে। সূত্র বলছে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে, ভারত অন্যান্য বিকল্প বিবেচনা করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন। হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য দুটি পাইপলাইনই নির্মিত হয়েছিল।

ভারতের হাতে আর মাত্র ২৫ দিনের তেল আছে!

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ভারতের কাছে এখন মাত্র ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত তেলের মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক যদিও বলছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও আগামী ৫০ দিন দেশের তৈল ভান্ডারে প্রভাব পড়ার কোনও আশঙ্কা নেইঅর্থাৎ সবমিলিয়ে ৫০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে দেশে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বহু দেশের তেল সরবরাহে প্রভাব পড়বে, যার মধ্যে ভারত-সহ এশিয়ার দেশগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫.৫৮% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০.৪১ ডলারে পৌঁছেছে।

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে শেয়ার মার্কেটে প্রভাব?

ইরান–ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধে বৈশ্বিক শেয়ার মার্কেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন, ইউরোপ ও এশিয়ার স্টক সূচকে পতন হবে। ইনভেস্টররা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ (শেয়ার) বিক্রি করে ‘সেফ হ্যাভেন’-এ চলে যেতে পারেন।

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে ভারতে সোনা-রুপোর দামে প্রভাব?

ইরান–ইসরায়েল সংঘাত  আরও রক্তক্ষয়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা-রুপোর দামে সাধারণত তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। কারণ এই দুই ধাতুই ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ছেড়ে সোনায় টাকা ঢালেন। এ নতুন কিছু নয়। ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা বাড়লেই তেলের দাম বাড়ে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এই অবস্থায় সোনা দাম চড়চড়িয়ে বাড়ার প্রবণতা দেখায়। রুপোও ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে কিছুটা চাহিদা পায়। তবে রুপো শিল্পক্ষেত্রেও (ইলেকট্রনিক্স, সোলার প্যানেল) ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। তাই বড় যুদ্ধ হলে শিল্প উৎপাদন কমার আশঙ্কায় কখনও রুপোর দাম প্রথমে ওঠানামা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বাড়লে রুপোর দামও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতে সোনার দাম নির্ভর করে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, ডলার-রুপির বিনিময় হার আমদানি শুল্কের উপর। সংঘাত বাড়লে ডলার আরও শক্তিশালী হতে পারে, রুপি দুর্বল হলে দেশীয় বাজারে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেম যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম দ্রুত বেড়েছিল।

(Feed Source: zeenews.com)