Pakistan in Israel-Iran War: তালিবানদের মার খেয়েও শোধরায়নি স্বভাব, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে এবার পাকিস্তানের এন্ট্রি…

Pakistan in Israel-Iran War: তালিবানদের মার খেয়েও শোধরায়নি স্বভাব, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে এবার পাকিস্তানের এন্ট্রি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এবার কি সরাসরি যোগ দেবে পাকিস্তান? মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে। ইশাক দার জানিয়েছেন যে সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। রিয়াধের সঙ্গে ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করে ইরানকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী। তবে আদৌ কি যুদ্ধে যোগ দেবে পাকিস্তান নাকি সবটাই ফাঁকা আওয়াজ? বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো— কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। গত সপ্তাহে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। রিয়াধের মার্কিন দূতাবাস এবং সৌদি আরবের ‘রাস তনুরা’ তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা সেই উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে বলেছেন যে সৌদি আরবের ওপর মিসাইল বা ড্রোন হামলা চললে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করতে বাধ্য হবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কারণেই অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় সৌদি আরব ইরানের থেকে অপেক্ষাকৃত কম হামলার সম্মুখীন হয়েছে। বিনিময়ে ইরানও পাকিস্তানের কাছে আশ্বাস চেয়েছে যাতে সৌদি আরবের মাটি ব্যবহার করে কেউ ইরানের ওপর হামলা না চালায়।

যদিও পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত জটিল। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিইর মৃত্যুর পর থেকেই পাকিস্তানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রায় ৪ কোটি শিয়া জনগোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে রাজপথে নেমেছে, যাতে ইতোমধ্যে অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিম সীমান্তে যখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তালিবানের সঙ্গেও পাকিস্তানের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান কোনোভাবেই ‘টু-ফ্রন্ট ওয়ার’ বা দুই সীমান্তের যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। একদিকে ধসে পড়া অর্থনীতি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীন অস্থিরতা, এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তবে রিয়াধের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানকে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)