
আমেরিকা-ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধের তীব্রতা লাগাতার বেড়েই চলেছে। সেই আবহেই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। মঙ্গলবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে আমেরিকার Air Force Global Strike Command পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করে বলে জানা গিয়েছে। দু’টি টেস্ট-রিএন্ট্রি ভেহিকলের সাহায্য় এই পরীক্ষা হয়, অর্থাৎ একটি পেলোড এক বা একাধিক ওয়ারহেড নিয়ে মহাকাশ হয়ে উড়ে যেতে পারে এবং ফের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১৩ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে হামলা চালানো সম্ভব। (US-Iran War)
তবে নিরস্ত্র অবস্থাতেই রকেটটি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেটিকে GT 254 হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। জানা গিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দেয় ওই ক্ষেপণাস্ত্র। মার্শা আইল্যান্ডে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানে। আমেরিকার সেনা আধিকারিকদের দাবি, পরমাণু-ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পারফর্ম্যান্স, কার্যকারিতা, নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে দেখতেই এই পরীক্ষা। এর আগে, গত বছর নভেম্বর মাসে এই ক্ষেপণাস্ত্রই পরীক্ষা করে আমেরিকা।
৫৬৭ ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কম্যান্ডার ক্যারি রে জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন অংশ কী ভাবে কাজ করবে, তা পরখ করে দেখা হয়। আমেরিকা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের পারফর্ম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে এই ধরনের পরীক্ষা জরুরি। তবে যে সময় পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল তারা, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একযোগে ইরানের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পাল্টা আঘাত নেমে আসছে ইরানের তরফেও। এই মুহূর্তে যুদ্ধের আঁচে তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের উপর আরও জোরাল আক্রমণ করতে প্রস্তপত তাঁরা। আরও বড় হামলা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাই আমেরিকার পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। গত বছরের শেষ দিকেই নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি শুরু করতে নির্দেশ দেন ট্রাম্প। পরমাণু অস্ত্রের নিরিখে চিন এবং রাশিয়ার থেকে পিছিয়ে থাকতে নারাজ আমেরিকা। তবে রাশিয়ার থেকে চিনের পরমাণু শক্তি অনেক বেশি বলে জানা গিয়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
