জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের ট্যাঙ্কারগুলো ভারতকে কেনার অনুমতি দিল মার্কিন প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে এই বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এমন অবস্থায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই ‘ওয়েভার’ বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ‘ভারত আমেরিকার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। ইরান বিশ্ব শক্তিকে দমানোর যে চেষ্টা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতেই এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ছাড় কেবল আগামী ৩০ দিনের জন্য এবং শুধুমাত্র সেই জাহাজগুলোর জন্যই প্রযোজ্য যা বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।’
ভারতের ওপর প্রভাব:
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে তেল আসা কমে যাওয়ায় ভারতের মজুত ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে ভারতের কাছে মাত্র ২৫ দিনের তেলের ব্যাকআপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেল হাতে পেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ান অয়েল ও রিলায়েন্সের মতো বড় সংস্থাগুলো প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগে রাশিয়ার তেল অনেক সস্তায় পাওয়া যেত। কিন্তু এখন তেলের আকাল থাকায় সেই সুযোগ নেই, বরং আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই এই তেল কিনতে হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
