হাসপাতালের বিল ছুঁয়েছে ১.৫ কোটি টাকা! ৪ বছর পার…কেন স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যাননি স্বামী? মামলা দায়ের হাইকোর্টে

হাসপাতালের বিল ছুঁয়েছে ১.৫ কোটি টাকা! ৪ বছর পার…কেন স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যাননি স্বামী? মামলা দায়ের হাইকোর্টে

বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিলার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা! বিচারপতি কৃষ্ণ রাও স্বামীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মহিলাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ।

হাসপাতালের বিল ছুঁয়েছে ১.৫ কোটি টাকা! ৪ বছর পার…কেন স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যাননি স্বামী? মামলা দায়ের হাইকোর্টে!

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক মহিলা। চিকিৎসার খরচ ইতিমধ্যেই ছুঁয়েছে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা। অভিযোগ, এতদিনেও স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কোনও উদ্যোগ নেননি স্বামী। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বেসরকারি হাসপাতাল। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে স্বামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।

আদালতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও প্রশ্ন তোলেন, “আপনি স্বামী হয়ে আপনার অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি কী দায়িত্ব পালন করেছেন? এতদিন হয়ে গেলেও স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেই কেন?” তাঁর এই মন্তব্যে আদালত কক্ষেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।

জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই মহিলা। এরপর তাঁকে কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান তাঁর স্বামী। চিকিৎসার ফলে কিছুটা সুস্থ হলেও তাঁকে আর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে চিকিৎসার বিলও মেটানো হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে মহিলাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মামলার শুনানিতে বেসরকারি হাসপাতালের আইনজীবী আদালতে জানান, বর্তমানে ওই মহিলা হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করেন। যদিও দুর্ঘটনার পর তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন, তবে তাঁর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা রয়েছে। অন্য কারও সাহায্যে তিনি খাবার খাওয়া বা দৈনন্দিন কিছু কাজ করতে পারেন। এই অবস্থায় তাঁকে বাড়ি বা সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয় আদালতে।

মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্দেশ দেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার একজন সিনিয়র চিকিৎসককে নিয়োগ করবেন। ওই চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে মহিলার শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করবেন এবং তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রিপোর্ট তৈরি করবেন।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৩০ মার্চ।