জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ঋতুস্রাবকালীন ছুটি নিয়ে বিতর্ক আজকের নয়। শুক্রবার সকালে এক শুনানিতে বড় মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক ঋতুস্রাব ছুটি চালু করা হলে তা তাদের চাকরির সুযোগে নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। এমন আইন হলে অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের চাকরিতে নিতে চাইবেন না। ফলে এবারও ঋতুস্রাব সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে রাজ্যগুলিকে ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের ছুটি দেওয়ার নিয়ম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি বলেন, সচেতনতা বাড়ানো এক জিনিস, কিন্তু আইনে বাধ্যতামূলক ছুটি করলে নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা ভিন্ন হতে পারে।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, ‘যদি আইন করে ঋতুস্রাবকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেকেই মহিলাদের চাকরিতে নেবেন না। এতে কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে।’ আবেদনকারী চেয়েছিলেন, ছাত্রছাত্রী হোক বা কর্মজীবী-ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। তবে আদালত মনে করে, এই ধরনের দাবি অনেক সময় মহিলাদের দুর্বল বা কম সক্ষম হিসেবে দেখানোর আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।
শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, ২০১৩ সালে কেরালা সরকার রাজ্যের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য ঋতুস্রাব ছুটির ব্যবস্থা করেছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছিলেন, এটি লিঙ্গ সমতার সমাজ গড়ার অংশ। কিছু বেসরকারি সংস্থাও স্বেচ্ছায় এই ধরনের সুবিধা দেয় বলে জানান তিনি।
তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, এগুলি স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ। কিন্তু আইন করে বাধ্যতামূলক করা হলে উল্টো ফল হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ঋতুস্রাবজনিত স্বাস্থ্যবিধিকে মেয়েদের জীবন, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে আদালত সব সরকারকে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, আলাদা শৌচাগার এবং ঋতুস্রাব স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশও দেয়।
(Feed Source: zeenews.com)
