জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬-এর মঞ্চে যখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রয়াত নক্ষত্রদের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছিল, তখন চরম অপমানের শিকার হল ভারতীয় সিনেমা। দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণময় কেরিয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হওয়া সত্ত্বেও, ‘ইন মেমোরিয়াম’ স্লাইডে ঠাঁই পেলেন না ভারতীয় সিনেমার ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্র। হলিউডের এই ‘বিস্মৃতি’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
বিগত বছরগুলোতে ইরফান খান, ভানু আথাইয়া, শ্রীদেবী বা শশী কাপুরের মতো ভারতীয় আইকনদের শ্রদ্ধা জানিয়ে অস্কার যে অন্তর্ভুক্তি তথা ইনক্লুসিভিটির বার্তা দিয়েছিল, ধর্মেন্দ্রর ক্ষেত্রে তা যেন কর্পূরের মতো উবে গেল। এক্স হ্যান্ডলে এক ভক্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “যারা সিনেমাকে জীবন দিয়ে দিল, সেই ধর্মেন্দ্রর মতো কিংবদন্তিকে অস্কার চিনল না। যখন আমাদের আইকনরা স্বীকৃতি পায় না, তখন এই আয়োজন নিয়ে এত উন্মাদনা কেন?”
মঞ্চের বাইরে যখন ক্ষোভের আগুন, ডলবি থিয়েটারের ভেতরে তখন বইছিল কান্নার রোল। কিংবদন্তি পরিচালক রব রেইনারের প্রতি নিবেদিত ছিল এ বছরের সবথেকে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি। সঞ্চালক বিলি ক্রিস্টাল তাঁর বন্ধু ও সহকর্মীকে স্মরণ করে বলেন, “একজন দুর্দান্ত কমেডি অভিনেতা থেকে মাস্টার স্টোরিটেলার হয়ে ওঠার বিবর্তনটা ছিল দেখার মতো।” হলিউডের তাবড় তারকারা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এই মহান পরিচালককে।
এবারের শোকগাথায় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় ক্যাথরিন ও’হারা এবং ডায়ান কিটন-কে। রেচেল ম্যাকঅ্যাডামস মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “ক্যাথরিন আমাদের হাসাতে হাসাতে কাঁদিয়ে ছাড়তেন।” ডায়ান কিটনের স্বকীয়তা এবং অভিনয় দক্ষতা কীভাবে বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের অনুপ্রাণিত করেছে, তা উঠে আসে রেচেলের স্মৃতিচারণে।
এছাড়াও ২০২৬-এর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য তালিকায় নাম ছিল রবার্ট রেডফোর্ড, ভ্যাল কিলমার এবং ফ্যাশন জগতের জাদুকর জর্জিও আরমানির। কিন্তু ভারতের ‘সুপারস্টার’ ধর্মেন্দ্রর অনুপস্থিতি অস্কারের এই উদযাপনকে অসম্পূর্ণ রেখে গেল।
(Feed Source: zeenews.com)
