Anand Dixit: হরিশ রানার পরিণতিই কি আনন্দের নিয়তি? ২৭ মাসে ৪ কোটির বিল, বাবা-মায়ের মরণপণ লড়াই

Anand Dixit: হরিশ রানার পরিণতিই কি আনন্দের নিয়তি? ২৭ মাসে ৪ কোটির বিল, বাবা-মায়ের মরণপণ লড়াই

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হরিশ রানাকে ‘প্যাসিভ’ ইচ্ছামৃত্যুতে সম্মতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তারপরই দিল্লি এইমসে ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া। ১৩ বছর ধরে ভেজিটেটিভ স্টেটে থাকার পর সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করতে লাইফ সাপোর্ট  খুলে দেওয়ায় সম্মত হয়। এবার সামনে এসেছে আরও একটি ঘটনা। মুম্বইয়ের আনন্দ দীক্ষিত। ৩৫ বছরের যুবক আনন্দ দীক্ষিত আড়াই বছর ধরে স্থায়ী ভেজিটেটিভ স্টেটে (persistent vegetative state) রয়েছেন।

ছেলের চিকিৎসায় ২৭ মাসেই ৪ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন আনন্দের বাবা-মা। ছেলেকে বাঁচিয়ে তুলতে, বাঁচিয়ে রাখার জন্য এক মরণপণ লড়াই লড়ছেন তাঁরা। হারিশ রানা ২০১৩ সালে পাঞ্জাবে পড়ার সময় ইউনিভার্সিটির হস্টেলে চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান। তারপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টেই ছিলেন। শ্বাস নেওয়ার জন্য ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব ও খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউবের উপর নির্ভরশীল ছিলেন হরিশ রানা। বহু বছরের চিকিৎসাতেও ছেলের অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায়, হরিশ রানার বাবা-মা আদালতে তাঁর ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন। বহু লড়াইয়ের পর শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তাতে অনুমোদন দেয়।

ওদিকে ভয়াবহ এক বাইক দুর্ঘটনার পর দু’ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুম্বইয়ের আনন্দ দীক্ষিতও একই অবস্থায় রয়েছেন। আড়াই বছর ধরে আনন্দ এক ধরনের ‘জীবন্ত মৃত্যু’তে বন্দি। ২০২৩-এর ২৯ ডিসেম্বর, এক কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের রাতে গোরখপুরে নতুন কেনা স্কুটার চালাচ্ছিলেন আনন্দ। সেটাই তাঁর জীবনে ট্র্যাজেডিকে ডেকে আনে। ২৪ ঘণ্টা তাঁকে দেখভালের জন্য রয়েছেন একজন নার্স। সেই নার্স অর্জুন প্রজাপতি বলেন, ১৮ মাস ধরে তিনি আনন্দের একটা চোখের পলক, হাতের আলতো চাপ বা মুখ থেকে অস্ফূট হলেও একটা শব্দের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু আনন্দের নীরবতা ভাঙেনি।

এদিকে ছেলের চিকিৎসা করাতে করাতে দীক্ষিত পরিবারের উপর আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে চিকিৎসার খরচ ৪ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। জমি ও সঞ্চয় সব বিক্রি করে দিয়েছেন আনন্দের বাবা-মা। এমনকি তাদের একমাত্র বাড়িও হারিয়েছেন। আনন্দ আইসিইউ-তে থাকা অবস্থাতেই বিল্ডিং সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি সমস্যার কারণে বিএমসি ভেঙে দেয় তাঁদের বাড়ি। শেষে বাড়ি ছেড়ে বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়িতে উঠে যেতে হয় তাঁদের। এমনকি হাসপাতালের বিল থেকে  শুরু করে ইনসিওরেন্স খারিজ হওয়া, প্রতি পদে পদে হেনস্থার শিকার হয়েছেন তাঁরা।

তবুও ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই ছাড়তে রাজি নন আনন্দের বাবা-মা। আনন্দের বাবা বলেন, “আমি সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছি শুধু একবার ওর মুখে ‘বাবা’ ডাকটা শোনার জন্য।” আনন্দের মা প্রতিদিন ছেলের ঘড়ি ও ফোন রেডি করে রাখেন অলৌকিক ঘটার অপেক্ষায়! কান্নাভেজা গলায় তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষা করছি। এই ঘরের নীরবতা যতই ভারী হোক, একজন মায়ের আশা তার থেকেও ভারী। আমার বিশ্বাস সে একদিন জেগে উঠবে।”

(Feed Source: zeenews.com)