
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সৌদি আরবে (Saudi) বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে যেহেতু আজ, বৃহস্পতিবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে, সেহেতু পরদিন মানে, আগামীকাল, শুক্রবারই সৌদি আরবে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর (Eid ul Fitr 2026)। সেই রকমই অনুমান। পবিত্র রমজান মাসের (Holy Ramadan) পরে পৃথিবী জুড়ে উৎসবের মেজাজ! সেই লগ্ন সমাগত। রমজান মুসলিমদের পবিত্রতম মাস (Ramadan the holiest month)। ইদের চাঁদ কি সত্যিই আগামীকাল দেখা যাবে? ভারতে কবে ইদ?
ভারতে ও বাংলাদেশে
এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেন। এটি মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখার সাপেক্ষেই এই তারিখটি নির্ধারিত হয়ে আসছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরে ভারতে ও বাংলাদেশে পবিত্র ইদ-উল ফিতর উদ্যাপন করা হয়। সৌদিতে যদি আগামীকাল, শুক্রবার ইদ পালিত হয়, তবে নিয়মানুসারে পরদিন ভারতে ইদ উদযাপিত হওয়ার কথা।
৩০ রমজান শেষে
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস হয়। ২৯টি রমজান শেষে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ইদ-উল ফিতর উদ্যাপিত হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে ইদ-উল ফিতর উদ্যাপিত হয় ৩০টি রমজান শেষে।
তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে
এদিকে তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর চাঁদ দেখা নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারেই ইসলামি মাস নির্ধারণ করে। তার ভিত্তিতে এই দুই দেশ পবিত্র ইদ-উল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক শুক্রবার ইদ-উল ফিতর উদ্যাপন করবে। আর সিঙ্গাপুরে ইদ উদ্যাপন করা হবে শনিবার।

ইদে কড়াকড়ি
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ইদ-উল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ইদের নামাজ আদায় করা হবে।
পবিত্র রমজান
মুসলিমদের কাছে বছরের সবচেয়ে পবিত্র সময় এই রমজান মাস। এই সময়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন, অর্থাৎ, উপবাস করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এই রমজান মাসের শেষ দিনে পালিত হয় তাঁদের সবচেয়ে বড় উৎসব ইদ-উল ফিতর। এই বছর ভারতে রমজান মাস শুরু হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে ২৯টি রোজার পরে ইদ। খুশির ইদ। আনন্দের ইদ। উদযাপনের ইদ। এটা প্রতিবারই ঘটে। প্রতি বছরই ইদের তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা সংশয় তৈরি হয়। কারণ ইদ পালনের জন্য ইদের চাঁদ দেখতে পাওয়াটা জরুরি। রমজান মাসের পরে শুরু হয় শাওয়াল মাস। আর এই শাওয়াল মাসের প্রথম দিনেই পালিত হয় ইদ-উল ফিতর। কখনও ২৯ দিনের রোজার পর ইদের চাঁদ ওঠে, কখনও আবার ৩০ দিন রোজা রাখার পরেও ইদের চাঁদ দেখা যায়।
ধৈর্য, উপবাস, আত্মচিন্তা
ইসলামি ক্যালেন্ডারের ১২ মাসের মধ্যে রমজান মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র মাস। মাসটি ধৈর্য, উপবাস, আত্মচিন্তার সময়। রমজান ইসলামি চান্দ্র ক্যালেন্ডারের নবম মাস। মাসটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন, রোজা রাখেন। ইসলামে প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের জন্য রোজা রাখা নিয়ম। যদিও, রোজা মানে কিন্তু কেবল না-খেয়ে থাকা নয়; এটি নিজের ইচ্ছা (নফস) নিয়ন্ত্রণ, খারাপ অভ্যাস পরিত্যাগ, ধৈর্য ধরার মাস। মুসলমানরা অধীর আগ্রহে এই মাসের জন্য অপেক্ষা করেন। তবে তার আগে সবার চোখ থাকে রমজানের চাঁদের দিকে, যাকে ‘চাঁদ রাত’ বলা হয়। চাঁদ দেখা দিলে তবেই রমজান শুরু হয় এবং পরের দিন থেকে রোজা রাখা হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
