
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বে দৃশ্যমান। বিশেষ করে ছোট দেশগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে মূল্যস্ফীতি সরকারের পিঠ ভেঙে দিচ্ছে। তেল অনেক দামি হয়ে গেছে। যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানেও হাহাকার চলছে। সেখানে মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য আরও বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করছে পাকিস্তান সরকার। সেজন্য 50% বাড়ি থেকে কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া কর্ম সপ্তাহও কমিয়ে চারদিন করা হয়েছে। পেট্রোল-ডিজেল বাঁচাতেই এসব হচ্ছে। এখন শাহবাজ সরকার সরকারীভাবে জনসাধারণের কাছে পেট্রোল এবং ডিজেলের ব্যবহার কমানোর জন্য আবেদন করেছে।
বিত্তবানদের প্রতি শাহবাজ সরকারের বিশেষ আবেদন
পাকিস্তান সরকার দেশের বিত্তবানদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়ে তাদের যানবাহন ও অপব্যয় নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্ত স্থাপন ও তেল সংরক্ষণ করতে বলেছেন। দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, সরকার ইতিমধ্যেই জনসাধারণকে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষকে তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলাও দরকার।
তেল ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত পাকিস্তান
ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে যুদ্ধের কারণে ইরান ইতিমধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছিল, যার কারণে এটি অন্য দেশে পৌঁছাতে পারছে না। সাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলো শত্রুর মিসাইল ও ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানও তেল সংকটে পড়েছে। আগামী দিনে পাকিস্তানে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শাহবাজ সরকার। এ কারণে তারা তেলের ব্যবহার কমানোর উপায় খুঁজে পেয়েছে। এই কারণেই বাড়ি থেকে 50% কাজ কার্যকর করা হয়েছে, যাতে লোকেরা কম বাইরে যায় এবং পেট্রোল এবং ডিজেল যতটা সম্ভব বাঁচানো যায়। এমনকি কাজের সপ্তাহে একদিন কমিয়েও তেল অনেকাংশে বাঁচানো যায়।
পাকিস্তানে শাহবাজ সরকারের কড়া নিয়ম
দুই সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার পেছনে শাহবাজ সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে তেল যতটা সম্ভব বাঁচাতে হবে। ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে কিছুদিন পড়ালেখা করলে দেশের কিছুটা তেল বাঁচবে। এই কারণেই অনেক এলাকার স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পড়াশোনা অনলাইন মোডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পাকিস্তান তেল বাঁচাতে সব রকম চেষ্টা করছে
তেলের সঙ্কট ও পেট্রোলের ব্যয় নিয়ে মানুষের ক্ষোভ কমাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু জনসাধারণ এই পদ্ধতি খুব একটা পছন্দ করছে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মানুষ। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, অথচ জনগণকে ৩০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। এই ক্ষোভ এড়াতে শাহবাজ সরকার তাদের যথাসম্ভব ঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈশ্বিক পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমার প্রভাবে পাকিস্তানে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া শুরু হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম বেড়েছে 24.4% এবং ডিজেলের দাম 21.8% বেড়েছে। সেখানে পেট্রোলের দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় 106.259 টাকা।
(Feed Source: ndtv.com)
