মোদির কপালে ভাঁজ ? মাত্র ৯ দিনের তেল রয়েছে ভারতের কাছে ! দাম বাড়বে গ্যাস-পেট্রোলের ? 

মোদির কপালে ভাঁজ ? মাত্র ৯ দিনের তেল রয়েছে ভারতের কাছে ! দাম বাড়বে গ্যাস-পেট্রোলের ? 

LPG Crisis : সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) মুখেই শোনা গিয়েছিল আশঙ্কার কথা। খোদ মোদি (Narendra Modi) জানিয়েছিলেন, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের (Iran Israel War) কারণে বড় জ্বালানি সংকট (Crude Oil Crisis) দেখা দিয়েছে বিশ্বে। যে কারণে কঠিন সময়ের মুখে পড়তে পারে দেশ। এই সময়ে সবাইকে একজোট হয়ে থাকতে হবে। এবার সেই একই কথা শোনা গেল RTI আবেদনের পর। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের থেকে আরটিআই (RTI)-এর উত্তরে এই তথ্য় পেয়েছে ‘ইন্ডিয়া টুডে’। 

ভারতের জন্য উদ্বেগের খবর
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য এক উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি একটি RTI (তথ্য অধিকার আইন) আবেদনের জবাবে জানা গেছে, ভারতের কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার বা Strategic Petroleum Reserve (SPR) দিয়ে জরুরি অবস্থায় মাত্র ৯.৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। যা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় রাখছে দেশবাসীকে। 

বিপদের দিনে মাত্র ৯ দিনের সম্বল ?
পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থির দামের মধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। একটি RTI-এর জবাবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমদানিতে কোনও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ভারতের হাতে থাকা সঞ্চিত তেল দিয়ে মাত্র ৯.৫ দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

বর্তমানে কোথায় জ্বালানির কী পরিস্থিতি
হিসেব দেখে বোঝা যাচ্ছে, ভারতের বর্তমান কৌশলগত তেলের সঞ্চয় ক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে ততটা ভাল নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নীচে দেওয়া হল

কেন্দ্র (Location) মোট ক্ষমতা (MMT) বর্তমান সঞ্চিত রয়েছে
বিশাখাপত্তনম ১.৩৩ MMT সঞ্চিত
ম্যাঙ্গালুরু ১.৫০ MMT সঞ্চিত
পাদুরু ২.৫০ MMT সঞ্চিত
মোট ক্ষমতা ৫.৩৩ MMT ৬৪% পূর্ণ (৩.৩৭২ MMT)

২০২৬ সালের ২৩ মার্চ রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) সঞ্চয় ক্ষমতার মাত্র ৬৪ শতাংশ বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ, ভাণ্ডারটি পুরোপুরি পূর্ণ নয়।

কেন এই পরিস্থিতি চিন্তার কারণ হতে পারে ?
১. আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা: ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে।
২. পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা: ভারত মূলত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি ব্যাহত হবে।
৩. অপর্যাপ্ত তেল: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৯০ দিনের সঞ্চয় কাম্য হলেও, ভারতের বর্তমান ৯.৫ দিনের বাফার অত্যন্ত নগণ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী রয়েছে
সরকার ২০২১ সালের জুলাই মাসে এই ভাণ্ডার বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে:

চণ্ডীখোল (ওড়িশা): ৪ MMT ক্ষমতা।

পাদুরু (কর্ণাটক): অতিরিক্ত ২.৫ MMT ক্ষমতা।

তবে এই প্রকল্পগুলি Public-Private Partnership (PPP) মডেলে হওয়ার কথা থাকলেও, তা এখনও কার্যকর বা চালু হয়নি। গত দুই দশকে ভারত তার কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার গড়ার চেষ্টা করলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ না হওয়া এবং নতুন প্রকল্পগুলির ধীরগতি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

(Feed Source: abplive.com)