মধ্যপ্রাচ্যে সংকট মোচনে মোদির দ্বারস্থ ট্রাম্প ? ফোনেই কথা দুই রাষ্ট্রপ্রধানের

মধ্যপ্রাচ্যে সংকট মোচনে মোদির দ্বারস্থ ট্রাম্প ? ফোনেই কথা দুই রাষ্ট্রপ্রধানের
Iran Israel War : ইরান-ইজারায়েলের যুদ্ধে (Iran US War) এবার বড় ভূমিকা নিতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে সংকট মোচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। খোদ এই খবরের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গর। কী কথা হয়েছে দু’জনে ?

মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই জলপথটি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে একমত হয়েছেন দুই নেতা।

কী আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানে
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গর সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘X’-এ এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশ্বের সিংহভাগ তেল সরবরাহকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি যাতে কোনোভাবেই অবরুদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষই জোর দিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কী বলেছেন মোদি

আমেরিকার পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন কল পেয়েছি। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ভারত যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তির পক্ষে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী যাতে উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য থাকে তা নিশ্চিত করা সমগ্র বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি।”

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী ?
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু পথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বিশ্ববাজারে তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই করিডোরে চলাচলের বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও ভুযো খবর নিয়ে বিতর্ক
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে মার্কিন রাজনীতি।

কেন সংঘাত দুই দেশের মধ্যে
সম্প্রতি ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানান, গত দুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বিশদে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে ৫ দিনের জন্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কী বলা হয়েছে
এই বিষয়ে ইরানের স্পিকার গালিবাফ এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার ম্যানিপুলেট করার জন্য এই কাজ করা হচ্ছে। ইজরায়েল-আমেরিকার কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকতে এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে।”

বাজার ধস ঠেকাতেই নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
ইরানের বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মারান্দি দাবি করেছেন, এটি ট্রাম্পের একটি পুরনো কৌশল। তিনি বলেন,

তেলের বাজারে প্রভাব কী পড়বে: প্রতি সপ্তাহে বাজার খোলার সময় ট্রাম্প এমন বিবৃতি দেন যাতে তেলের দাম কমানো যায়।

সময় বুঝেই এই কথা : ট্রাম্পের দেওয়া ৫ দিনের সময়সীমা মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের লেনদেনের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

বাস্তবে কী হয়েছে এখানে :  ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও আলোচনা চলছে না ও ইরানের কড়া হুঁশিয়ারির মুখেই ট্রাম্প হামলা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

(Feed Source: abplive.com)