দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি পাওয়া হরীশ রানার জীবন এবার বড়পর্দায়!

দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি পাওয়া হরীশ রানার জীবন এবার বড়পর্দায়!

কলকাতা: ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান। দিল্লি এএমস-এ থেমে গেল বুকের ধুকপুকুনিটুকু। দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যু। যাঁর মৃত্যু চেয়ে, বছরের পর বছর ধরে লড়াই করেছিলেন, তাঁরই বাবা মা! দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে, সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানাকে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রয়াত হয়েছেন হরিশ রানা। আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য ও হয়েছে। যে ছেলেকে মৃত্যুর রায় শোনাতে গিয়ে কেঁদেছিলেন স্বয়ং বিচারক ও, তাঁরই জীবনকাহিনী এবার বড়পর্দায়!

হরিশ রানার মৃত্যুর ঘটনা যেন নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে! ১৩ বছর ধরে, বিছানায় থেকে, একেবারে যন্ত্রনির্ভর হয়ে জীবন কাটানোটা মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু গোটা দেশে এভাবে বেঁচে রয়েছেন অনেকেই। তবে হরিশের মৃত্যু চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন খোদ তাঁর বাবা মা-ই। তাঁরা জানিয়েছিলেন, গত ১৩ বছর ধরে হরিশের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁরা কার্যত নিঃস্ব। চলে গিয়েছে মাথার ওপরের ছাদটুকু ও। অন্যদিকে হরিশের বাবা-মা ২ জনেরই বয়স হচ্ছে। তাঁরা প্রয়াত হলে হরিশকে কে দেখবে, তাই নিয়ে ছিল তাঁদের চিন্তা। সেই কারণেই হরিশের বাবা-মা আদালতে হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানিয়েছিলেন। অবশেষে, সেই রায়ে সিলমোহর দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

হরিশের মর্মস্পর্শী এই জীবনকেই পর্দায় তুলে আনতে চান মুম্বইয়ের এক লেখক। হরিশের আইনজীবী মনীষ জৈন জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের এক লেখক হরিশের জীবন নিয়ে ছবি তৈরি করার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কেবলমাত্র হরিশের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাই নয়, তাঁর ছোটবেলা, লড়াই করে বড় হওয়ার গল্প, সবই নাকি ফুটিয়ে তোলা হবে এই ছবিতে। কেবলমাত্র একজন রোগীর কষ্টই নয়, বরং তাঁর পরিবারের সংগ্রাম, আইনজীবীর পরিশ্রম এবং ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াও দেখানো হবে। হরিশের বাবা মায়ের কঠিন লড়াই, মানসিক টানাপোড়েন সবই এই ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হবে। বিস্তারিত দেখানো হবে বিচার প্রকৃয়াও।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন হরীশ। চণ্ডীগড়ে থাকছিলেন পেয়িং গেস্ট হিসেবে। সেই অবস্থাতেই ২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট চার তলার ব্যালকনি থেকে নীচে পড়ে যান হরীশ। মাথায় গুরুতর চোট পান তিনি। ১০০ শতাংশ কোয়াড্রিপ্লেজিক ডিসেবিলিটি গ্রাস করে তাঁকে। সেই থেকে শয্যাশায়ী ছিলেন হরীশ। কথা বলতে পারতেন না। নড়াচড়া নেই বিন্দুমাত্র। কানেও শুনতে পেতেন না, দেখতেও পেতেন না, চিনতে পারতেন না কাউকে। কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টে কোনও রকমে প্রাণবায়ু চলছিল এতদিন।

(Feed Source: abplive.com)