Akshaye Khanna: ১৯ বছরে মাথায় টাক, করিশ্মার সঙ্গে বিয়ে ভাঙা থেকে বাবার আশ্রমে চলে যাওয়া- অক্ষয় খান্নার জীবন যেন সিনেমার চেয়েও টানটান

Akshaye Khanna: ১৯ বছরে মাথায় টাক, করিশ্মার সঙ্গে বিয়ে ভাঙা থেকে বাবার আশ্রমে চলে যাওয়া- অক্ষয় খান্নার জীবন যেন সিনেমার চেয়েও টানটান

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তাঁর জীবনের গল্প যেন হার মানায় সিনেমাকেও। বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় জন্ম হলেও অক্ষয় খান্নার পথটা কোনোদিনই মসৃণ ছিল না। সুপারস্টার বিনোদ খান্নার ছেলে হওয়া সত্ত্বেও তাঁর লড়াইটা ছিল কঠিন এবং ব্যক্তিগত। দীর্ঘ কেরিয়ারে ২৩টি ফ্লপ, মাত্র ১৯ বছর বয়সেই মাথার চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া এবং ভেঙে যায় প্রেম—সব বাধা পেরিয়ে ৫০ বছর বয়সে এসে অক্ষয় আজ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম ‘পাওয়ার হাউস’। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে তাঁর ‘রেহমান ডাকাত’ চরিত্রটি দর্শকদের মনে যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে, তাতে একটা কথা স্পষ্ট—আসল প্রতিভা কখনো ফুরিয়ে যায় না।

অক্ষয়ের ছোটবেলার দিকে যদি ফিরে তাকানো যায়, ১৯৭৫ সালে যখন অক্ষয়ের বয়স মাত্র পাঁচ, তখন তাঁর বাবা বিনোদ খান্না খ্যাতির মধ্যগগনে থেকে হঠাৎই সব ছেড়ে ওশো রজনীশের আশ্রমে চলে যান। গেরুয়া বসন পরে প্রায় পাঁচ বছর তিনি পরিবার থেকে দূরে ছিলেন। সেই সময়কার কথা মনে করে অক্ষয় পরবর্তীকালে বলেছিলেন, “৫ বছরের এক শিশুর পক্ষে এটা বোঝা অসম্ভব ছিল।” বাবার অনুপস্থিতি এবং মা-বাবার বিচ্ছেদ অক্ষয়কে অন্তর্মুখী করে তুলেছিল। কিন্তু আজ তিনি পরিণত। বাবার সেই সিদ্ধান্তকে আজ তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গেই দেখেন।

১৯৯৭ সালে বাবার হাত ধরেই ‘হিমালয় পুত্র’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন অক্ষয়। সিনেমাটি চলেনি, কিন্তু অক্ষয় নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। এরপর ‘বর্ডার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। ‘তাল’ থেকে ‘দিল চাহতা হ্যায়’—প্রতিটি ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় অন্ধকারের পালা। একের পর এক ২৩টি সিনেমা ফ্লপ হওয়ার পর অক্ষয় ইন্ডাস্ট্রি থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “কাজ না থাকাটা আমাকে ভিতর থেকে মেরে ফেলছিল।” কিন্তু দমে যাননি তিনি। ‘মম’, ‘সেকশন ৩৭৫’ এবং ‘দৃশ্যম ২’-এর মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেন কেন তাঁকে সেরা বলা হয়।

১৯ বছর বয়সেই অকালেই অক্ষয়ের মাথার চুল পড়ে যায়, কার্যত টাক পড়ে যায় অভিনেতার মাথায়। একজন অভিনেতার কাছে যা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ধাক্কা আসে ব্যক্তিগত জীবনেও। এক সময় অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। রণধীর কাপুর স্বয়ং বিনোদ খান্নার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু করিশ্মার মা ববিতার আপত্তিতে সেই সম্পর্ক আর পূর্ণতা পায়নি। মনে করা হয় এরপর থেকে অক্ষয় চিরকালই সিঙ্গল থেকে গিয়েছেন।

২০২৬-এ এসে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে তাঁর নাচ এবং তীক্ষ্ণ চাহনি সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। খলনায়ক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছবির মূল নায়ককেও অনেক সময় ছাপিয়ে গিয়েছে। এমনকি ফারহা খানও তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি অস্কার পাওয়ার যোগ্য। বর্তমানে তেলেগু সিনেমায় অভিষেক এবং আরও শক্তিশালী স্ক্রিপ্টের দিকে ঝুঁকছেন এই অভিনেতা। অক্ষয় খান্না প্রমাণ করেছেন, সুপারস্টার হওয়ার জন্য শুধু পিআর বা গ্ল্যামার লাগে না; ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করলে সাফল্য ঠিকই ধরা দেয়।

(Feed Source: zeenews.com)