
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ওয়াশিংটন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিনেসোটা থেকে নিউ ইয়র্ক- শনিবার যেন এক অন্য আমেরিকাকে দেখল বিশ্ব। স্লোগানটা মাত্র দুটো শব্দের। No Kings। রাজা চাই না। কিন্তু সেই দুটো শব্দ শনিবার আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্য জুড়ে আছড়ে পড়েছে ঢেউয়ের মতো। ৩,২০০-রও বেশি মিছিলের পরিকল্পনা ছিল— শুধু মার্কিন মুলুকে নয়, একাধিক মহাদেশেও। আয়োজকরা বলছেন, এটাই সম্ভবত আমেরিকার ইতিহাসে একদিনে সংঘটিত সবচেয়ে বড় অহিংস গণআন্দোলন।
মূল মঞ্চ ছিল মিনেসোটার সেন্ট পল শহরে। কারণটা নিছক প্রতীকী নয়। এই শীতেই মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন দমন অভিযান চালাতে গিয়ে ফেডারেল এজেন্টরা গুলি করে মেরেছিল দুই মার্কিন নাগরিককে— অ্যালেক্স প্রেত্তি আর রেনে গুড। সেই ক্ষতটা এখনও শুকোয়নি। মঞ্চে উঠলেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ। ভিড়ের গর্জনের মাঝে বললেন, হোয়াইট হাউসের ‘হবু স্বৈরশাসক’ যখন অপ্রশিক্ষিত গুন্ডাদের পাঠিয়েছিল মিনেসোটায়, তখন এই রাজ্যের মানুষ মাথা নোয়ায়নি। প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়িয়েছে। মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছে। তারপর মঞ্চে এলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন। গানে, প্রতিবাদে।
লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে ভিড়
দিন গড়াতেই ওয়াশিংটন ডিসি সরগরম হয়ে উঠল। লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়ি ভরে গেল মানুষে। ন্যাশনাল মলে ঢল নামল। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড— ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে, ICE-এর বিরুদ্ধে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও পুড়ল ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কুশপুত্তলিকা।
উল্লেখ্য, এটা তৃতীয় দফার ‘No Kings’ বিক্ষোভ। আগের দু’টিতে জড়ো হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। এবার সংখ্যাটা আরও বড় হওয়ার পথে। নাগরিকদের রাগটা একটা বিষয়ে নয়। ইরানে যুদ্ধ, জ্বালানির লাগামছাড়া দাম, অভিবাসীদের গণবিতাড়ন— এই তিনটি ইস্যু একসঙ্গে ফুঁসছে। আয়োজকদের আওয়াজ তুলছেন সরাসরি, ট্রাম্প স্বৈরাচারীর মতো রাজত্ব করতে চাইছেন। কিন্তু আমেরিকায় ক্ষমতা মানুষের হাতে, কোনও রাজা বা তাঁর কোটিপতি বন্ধুদের হাতে নয়।
ট্রাম্প বলছেন, ‘আমি রাজা নই
কয়েকটি রাজ্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছে। তবে আয়োজকরা জোর দিয়ে বলছেন, এটা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। ট্রাম্প শিবির এই বিক্ষোভকে ‘হেট আমেরিকা র্যালি’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইছে। ট্রাম্প নিজে ফক্স নিউজকে বলেছেন, ওরা আমাকে রাজা বলছে। আমি রাজা নই।
কিন্তু রাস্তার মানুষ সেটা মানতে নারাজ। সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প একের পর এক এগজিকিউটিভ অর্ডারে ফেডারেল সরকারের অনেক স্তম্ভ ভেঙে দিয়েছেন, গভর্নরদের আপত্তি উপেক্ষা করে শহরে শহরে ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন। এই সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধান না মানার অভিযোগ উঠছে বারবার। রাস্তায় মিছিলে পা মেলানো মানুষ বলছে, এটা দলের লড়াই নয়। এটা গণতন্ত্রের লড়াই।
(Feed Source: zeenews.com)
