Lockdown in India: মন কি বাতেও মোদীর মুখে কোভিডকালের দুঃস্বপ্ন: বারবার কেন এমন কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী? লকডাউন ফিরছেই?

Lockdown in India: মন কি বাতেও মোদীর মুখে কোভিডকালের দুঃস্বপ্ন: বারবার কেন এমন কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী? লকডাউন ফিরছেই?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২৯ মার্চ, ২০২৬ রবিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বাধিক জনপ্রিয় রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩২তম পর্বে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ রেখেছেন।  বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি দেশবাসীকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়কার কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কোভিড পরবর্তী বিশ্ব ও নতুন সংকট

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমরা সবাই আশা করেছিলাম যে করোনার ভয়াবহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পর পৃথিবী উন্নতির নতুন পথে এগোবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন যে, এই মার্চ মাসটি বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও উত্তেজনাকর ছিল। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কেবল সেই অঞ্চলের নয়, বরং সারা বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সতর্ক করে বলেন যে, যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের বড় ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্য ভারতের জ্বালানি চাহিদার প্রধান উৎস, তাই সেখানে অস্থিরতা মানেই ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

যুদ্ধাতঙ্ক

‘যে অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে, তা আমাদের জ্বালানি চাহিদার প্রধান কেন্দ্র। এর ফলে বিশ্বব্যাপী পেট্রোল ও ডিজেল সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে গত এক দশকে ভারত যে বৈশ্বিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা তৈরি করেছে, তার জোরেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি।’

গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন

কোভিড মহামারীর সময়ের মতো বর্তমানেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘এনার্জি লকডাউন’ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাল নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা খবর বিশ্বাস না করতে তিনি অনুরোধ জানান। তিনি স্পষ্ট বলেন যে, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তেল ও খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে।

তিনি দেশবাসীকে পরামর্শ দেন:

১. কেবল সরকারি তথ্যের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

২. কোনও বিষয়ে আতঙ্কিত (Panic) হয়ে কেনাকাটা করবেন না।

৩. যারা এই সংকটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের থেকে দূরে থাকুন

জাতীয় ঐক্য ও প্রস্তুতির ডাক

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত যেমন অতীতে ১৩০ কোটি মানুষের শক্তিতে করোনাকে পরাজিত করেছিল, ঠিক তেমনি বর্তমানের এই বিশ্ব অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটকেও ভারতবাসী একজোট হয়ে জয় করবে। তিনি ‘টিম ইন্ডিয়া’র স্পিরিট নিয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বার্তা

যুদ্ধের আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। সামনেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। তিনি দেশবাসীকে চিনি ও রান্নার তেলের ব্যবহার অন্তত ১০ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো আমাদের জীবনযাত্রার রোগ (Lifestyle diseases) থেকে দূরে রাখবে এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনে সাহায্য করবে।

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জ্ঞান ভারতম সার্ভে’ (Gyan Bharatam Survey)-এর কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে দেশের সব প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরে খেলাধুলার উন্নতি এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রশংসাও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি মূলত ছিল সতর্কতা ও আত্মবিশ্বাসের সংমিশ্রণ। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্ব পরিস্থিতি কঠিন হলেও ভারত ভীত নয়। তবে কোভিডের সময়কার মতো শৃঙ্খলা এবং ঐক্যই হবে এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

(Feed Source: zeenews.com)