Health Awareness: আপনি কি আদৌ স্বাস্থ্যবান বা ফিট? উত্তরটা লুকিয়ে আছে একটাই সংখ্যায়, জানুন

Health Awareness: আপনি কি আদৌ স্বাস্থ্যবান বা ফিট? উত্তরটা লুকিয়ে আছে একটাই সংখ্যায়, জানুন

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সিঁড়ি চড়তে গিয়ে হাঁফ ধরছে? প্যান্টের বোতাম আটকাতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে? বা সন্ধেবেলা কিছু না করেই এমন ক্লান্তি লাগছে যেন সারাদিন মাঠে খেটেছ? শরীর কিন্তু বোকা নয়। সে ঠিকই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কিছু একটা ঠিক নেই। কিন্তু ‘কতটা ঠিক নেই’ সেটা মাপার উপায় আছে। আর সেই উপায়টার নাম BMI।

অনেকেই ভাবেন, ওজন মাপলেই তো হল। কিন্তু শুধু ওজন দিয়ে কিছু বোঝা যায় না। পাঁচ ফুট উচ্চতার কেউ যদি ৭০ কেজি হন, সেটা বিপজ্জনক হতে পারে। আবার পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির কেউ একই ওজনে একদম স্বাভাবিক। তাই উচ্চতা আর ওজন দুটো মিলিয়ে দেখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এই BMI জিনিসটা কী?

বডি মাস ইন্ডেক্স, সংক্ষেপে BMI। উচ্চতা আর ওজন দিয়ে হিসেব করা একটা সংখ্যা, যেটা বলে দেয় তোমার শরীরের অবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। হিসেবটা একেবারে সহজ: ওজন (কেজিতে) ভাগ উচ্চতার বর্গ (মিটারে)।

ধরুন, আপনার ওজন ৬০ কেজি, উচ্চতা দেড় মিটার। তাহলে BMI হচ্ছে ২৬.৭। এই সংখ্যাটুকু দিয়েই বোঝা যাবে তুমি কোন ঘরে পড়ছ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী:

১৮.৫-এর নীচে: কম ওজন
১৮.৫ থেকে ২৪.৯: একদম ঠিকঠাক
২৫-এর উপরে: বেশি ওজন
৩০-এর উপরে: স্থূলতা

তবে ভারতীয়দের জন্য মাপকাঠিটা একটু কড়া। আমাদের শরীরের গড়ন পশ্চিমীদের থেকে আলাদা। পেটের দিকে চর্বি জমার প্রবণতা আমাদের মধ্যে বেশি। সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ২৩-এর উপরে গেলেই সতর্ক হওয়া উচিত, ২৫ পেরোলে তো বটেই।

সংখ্যাটা বেশি হলে কী হয়?

সত্যি কথা বলতে গেলে, অনেক কিছু হয়। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র CDC-র তথ্য বলছে, BMI বেশি থাকলে একাধিক গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক তো আছেই। তার সঙ্গে আছে ঘুমের মধ্যে শ্বাসের সমস্যা, হাঁটুর ব্যথা, গলব্লাডারের সমস্যা, এমনকি কিছু ধরনের ক্যান্সারও।

শুধু শরীর নয়, মনের উপরেও প্রভাব পড়ে। গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে বিষণ্নতা আর উদ্বেগের ঝুঁকিও বাড়ে। কারণটা শুধু হরমোন নয়, সমাজের চোখ আর নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাও কাজ করে।

কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটু সচেতন হলেই অনেকটা সামলানো যায়।

তাহলে কী করবেন?

শারদা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শ্রেয় শ্রীবাস্তব বলছেন, BMI বেশি মানেই জীবন শেষ নয়। এটা একটা সতর্কবার্তা, রায় নয়। এবং সুখবর হল, সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে গোটা শস্য, শাকসবজি আর ফাইবারজাতীয় খাবার বাড়াতে হবে। ভাজাভুজি, প্যাকেটজাত খাবার আর মিষ্টি পানীয় যতটা সম্ভব কমাতে হবে। খাওয়ার পরিমাণ হঠাৎ করে কমাতে যাবেন না, সেটা উলটে ক্ষতি করে। ধীরে ধীরে অভ্যাসটা বদলান।

শরীরচর্চার কথা বলতে গেলে, জিম না হলেও চলবে। রোজ আধঘণ্টা জোরে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা সাইকেল চালানো, এইটুকুই অনেক। সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিটের মাঝারি শরীরচর্চা হলে ভালো।

ঘুমের কথা অনেকে উড়িয়ে দেন। কিন্তু ঘুম কম হলে খিদে বাড়ায় এমন হরমোন বেড়ে যায়। ফলে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টার ঘুম তাই ওজন নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসে।

ডা. শ্রীবাস্তব আরও বলছেন, মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমলেই হৃদরোগ আর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি চোখে পড়ার মতো কমে। মানে, ৮০ কেজির কেউ যদি মাত্র ৪ থেকে ৮ কেজি কমাতে পারেন, সেটাই বিশাল পরিবর্তন।

BMI সব কিছু বলে না

একটা কথা মনে রাখবেন। BMI একটা স্ক্রিনিং টুল, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র নয়। যিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁর শরীরে পেশি বেশি থাকে। পেশির ওজন চর্বির চেয়ে বেশি হয়। ফলে তাঁর BMI বেশি হতেই পারে, কিন্তু তিনি মোটেও অসুস্থ নন। উলটোটাও আছে। অনেকের ওজন স্বাভাবিক কিন্তু পেটে চর্বি জমে আছে। তাঁদের BMI দেখে মনে হবে সব ঠিক আছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিপদ তৈরি হচ্ছে।

তাই ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, BMI-এর পাশাপাশি কোমরের মাপটাও জরুরি। কোমরের মাপ পেটের চর্বির সরাসরি সংকেত দেয়। সেই সঙ্গে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা আর কোলেস্টেরলের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখলে ছবিটা অনেক পরিষ্কার হয়।

শেষে একটাই কথা

BMI আপনার উপর কোনও স্ট্যাম্প মারা বা তকমা দেওয়ার জন্য নয়। এটা একটা আয়না। সেই আয়নায় একবার নিজেকে দেখুন। সংখ্যাটা ভালো না লাগলে সেটাই হোক শুরুর জায়গা। কারণ বড় বদলের শুরু সবসময় একটা ছোট্ট সিদ্ধান্ত থেকেই হয়।

(Feed Source: zeenews.com)