World Health Day 2026: সব কিছু গুছিয়ে রাখার চাপেই ভেতর থেকে ভাঙছেন অনেকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরাই

World Health Day 2026: সব কিছু গুছিয়ে রাখার চাপেই ভেতর থেকে ভাঙছেন অনেকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরাই

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সকালে উঠেই শুরু হয় একটা অদৃশ্য দৌড়। অফিসে ভালো করতে হবে, বাড়িতে ভালো করতে হবে, নিজের যত্নও নিতে হবে। সব একসঙ্গে, সব নিখুঁত। এই ‘সব কিছু ঠিকঠাক রাখতে হবে’ চাপটা কোথা থেকে আসছে, সেটা টেরও পাওয়া যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেতরটা ফাঁকা হতে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আসছে। একটু থমকে দাঁড়ান। ভাবুন। কারণ,  মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চাপটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।

সুস্থ থাকা মানে কি শুধু অসুখ না থাকা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কথায়, মানসিক সুস্বাস্থ্য মানে শুধু কোনো রোগ না থাকা নয়। মানে হল এমন একটা জায়গায় থাকা, যেখানে চাপ সামলানো যায়, কাজে মন বসে, আশপাশের মানুষের কাজেও আসা যায়।

কিন্তু সেই জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায় যখন নিজেকে বারবার অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়, বা মাথায় ঢুকে বসে থাকে যে আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল।

‘সব ঠিক আছে’ বলতে বলতেই ভেঙে পড়েন অনেকে

মুম্বইয়ের স্যর এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মেহেজাবিন দোরদি বলছেন, অতিরিক্ত পজিটিভ থাকার চেষ্টাটাও কিন্তু বিপজ্জনক। যখন কেউ সব সময় নিজেকে ‘ঠিক আছি’ প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকেন, তখন আসল অনুভূতিগুলো চাপা পড়ে যায়।

তার কথায়, কষ্ট পেলে কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক। রাগ চড়ে গেলে, সেটাও। ওটাকে অস্বীকার না করে স্বীকার করে নেওয়াটাই আসল সুস্থতার লক্ষণ।

পারফেকশনের পেছনে দৌড়ালে শরীরও সায় দেয় না

ইতিবাচক চিন্তা যে শরীরের উপরেও সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেটা নিয়ে গবেষণা চলছে বহুদিন ধরে। মেয়ো ক্লিনিক এ বিষয়ে বলেছে:

আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, দীর্ঘদিনের চাপে ঘুম কমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, বিষণ্নতা আর উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ নিখুঁত হওয়ার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ছোট ছোট পদক্ষেপই কাজের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় লক্ষ্যের পেছনে না ছুটে ছোট ছোট অভ্যাস তৈরি করাই বেশি কার্যকর। ভাইব্র্যান্ট ইমোশনাল হেলথও একই কথা মনে করিয়ে দিয়েছে:

মেহেজাবিন দোরদি একটা সহজ উপায়ের কথা বললেন। মাথায় যে নেতিবাচক চিন্তাগুলো বারবার ঘুরে আসে, সেগুলো লিখে ফেলুন। তার পর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এটা কি সত্যিই এতটা বড়? অন্যভাবে দেখলে কেমন লাগছে? এই একটা অভ্যাসই চিন্তার ধরন বদলে দিতে পারে।

মানসিকতাটাই আসল হাতিয়ার

ডা. বেথ ফ্রেটস এই বিষয়ে চারটে সহজ প্রশ্ন রেখেছেন নিজেকে করার জন্য:

কোথা থেকে শুরু করবেন?

প্রথমে নিজের অনুভূতিটা মেনে নিন। জোর করে হাসার দরকার নেই। তার পর ভাবুন, এই মুহূর্তে আমি কী করতে পারি। শরীর একটু সচল রাখুন, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। আর দরকার মনে হলে পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।

এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে বিশেষজ্ঞদের বার্তা একটাই। নিখুঁত হওয়াটা লক্ষ্য নয়। একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়াটাই যথেষ্ট।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। কোনও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

(Feed Source: zeenews.com)